রাঙামাটিতে সিএনজি অটোরিকশার জ্বালানি এলপিজি গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।পাম্পগুলোতেও মিলছে না গ্যাস। গ্যাস না থাকায় জেলা শহরের একমাত্র যাতায়াতেরমাধ্যম সিএনজি অটোরিকশা চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। এদিকে, হঠাৎ করে শহরে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
মূলত রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে রাঙামাটিতে এলপিজি গ্যাসের সংকট দেখা দিলেও সোমবার (১২ জানুয়ারি) থেকে তীব্র হয়ে ওঠে। গ্যাস পাম্পগুলোর সামনে সিএনজি অটোরিকশা দীর্ঘ লাইন দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না অভিযোগ সিএনজি চালকদের।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙামাটি জেলা শহরের ভেদভেদী এলাকায় অবস্থিত মা এন্টারপ্রাইজ গ্যাস পাম্প পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সকাল থেকেই সিএনজি অটোরিকশা চালকরা গ্যাসের জন্য লাইনে আছেন। দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের প্রায় ৩ শতাধিকের বেশি সিএনজি অটোরিকশা অপেক্ষামান ছিল। তবে সোমবার থেকে গ্যাস পুরোদমে না থাকায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার গ্যাস আসলে সরবরাহ করা যাবে বলে জানিয়েছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ।
শ্যামল চাকমা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সকালে একটা কাজে বের হয়েছি। কিন্তু হ্যাপির মোড়ে সিএনজি জন্য ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করে কোনো রকম একটা সিএনজি পেয়েছি। সিএনজি চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় যাতায়াতের খুব সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
জ্যাকশন চাকমা নামের আরেকজন বলেন, কলেজ গেইট থেকে বনরুপা যাওয়ার জন্য গাড়ি জন্য অপেক্ষা করেও গাড়ি পাইনি। যে সিএনজিগুলো চলতেছে সেগুলো সহজে এক -দুইজন যাত্রী হলে গাড়িতে তুলতেছে না। গাড়ি না পেয়ে আমার এক বন্ধু বাইকে করে এসে নিয়ে গেছে।
সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. নাসির উদ্দীন বলেন, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। পাম্পেও গ্যাস নেই। এখন গ্যাস না পেলে আমাদের সিএনজি চলানো বন্ধ রাখতে হবে।
আরেক চালক রহমত আলী বলেন, গত দুইদিন ধরে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করেও পাওয়া যাচ্ছে না। পাম্প থেকে বলতেছে, গ্যাসের গাড়ি আসবে কিন্তু কখন আসবে তা বলতেছে না। গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করে থাকতে বসে থাকতে সময় চলে যাচ্ছে। গাড়ি চালাব কী করে। গাড়ি চালিয়ে আমাদের সংসার চলে। এখন গাড়ি যদি চালাতে না পারি তাহলে সংসার চাল্যাব কীভাবে।
রাঙামাটি জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান (বাবু) বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে রাঙামাটি শহরে যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাই কোনো অবস্থায় যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে বেশি ভাড়া না নেওয়ার জন্য সিএনজি চালকদের অনুরোধ করা হয়েছে। তবে কোনো চালক যাত্রী সাধারণের কাছে অতিরিক্ত বেশি ভাড়া আদায় করলে গাড়ির নম্বরসহ সমিতির কাছে অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইতিমধ্যে গ্যাস পাম্প মালিকপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছি। আশা করছি, শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হবে।
রাঙামাটির জ্বালানি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় দাস বলেন, গত দুদিন ধরে পাম্পে জ্বালানি গ্যাস নেই। গতকালও (সোনবার) গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। আজকেও (মঙ্গলবার) বন্ধ আছে। আজকেই যে গ্যাস পাওয়া যাবে আমরা এমন কোনো তথ্য সিএনজি অটোরিকশা চালকদের দিইনি। কিন্তু সকাল থেকেই সিএনজি অটোরিকশা চালকরা গ্যাসের জন্য লাইন দিয়ে আছেন। তবে আমাদের গ্যাসের গাড়ি রিফিল হচ্ছে, চালান পাওয়া গেলে গাড়ি আসবে। তবে গাড়ি কখন আসবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আপাতত যেহেতু গ্যাসের চাহিদা বেশি, সে কারণে আমরা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করব। কারণ অনেকের এক হাজার টাকার গ্যাসের চাহিদা থাকলেও এ পরিমাণে দিলে সবাইকে দেয়া সম্ভব হবে না। সে কারণে মালিক এসে সিদ্ধান্ত নেবেন কতটুকু গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হবে।
জেলা শহরের উপকণ্ঠ মানিকছড়িতে অবস্থিত আলাদিন এলপিজি অটো গ্যাস স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আসিফ বলেন, সারাদেশেই এই সংকট। গ্যাসের গাড়ি আসতেছে না। আমাদের পাম্পে পাঁচদিন ধরে গ্যাস নেই। আমরা পাম্প আপাতত বন্ধ রেখেছি। গ্যাসের গাড়ি আসলে পাম্প চালু করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, এটা শুধু রাঙামাটির সমস্যা না, সারাদেশের সমস্যা। এটা নিয়ে বাণিজ্যিক মন্ত্রণকলয় কাজ করছে। তবে স্থানীয়ভাবে জেলা প্রশাসন থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।
পড়ুন- ইতালিতে সিলেট বিভাগ জাতীয়তাবাদী ফোরামের কমিটি ঘোষণা
দেখুন- আমরা এই নির্বাচনকে একটা ‘আইকনিক নির্বাচন’ হিসেবে দেখতে চাই: জামায়াত আমির |


