১৯/০২/২০২৬, ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
১৯/০২/২০২৬, ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশে আমদানি নির্ভরতা বাড়বে

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মহাপরিকল্পনা- ২০২৫ বাতিলের দাবিতে রাঙামাটিতে সুশীল সমাজের সঙ্গে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাঙামাটি শহরের রাজবাড়ী সড়কের একটি রেস্টুরেন্টে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-ফেড’ রাঙামাটি ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিলে ফেড রাঙামাটির সভাপতি মুজিবুল হক বুলবুলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য নাইউ প্রু মারমা মেরী, এনজিও সংস্থা প্রোগ্রেসিভের নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা ও শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা প্রমুখ।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোনঘর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এবং উন্নয়ন গবেষক অশোক কুমার চাকমা। স্বাগত বক্তব্য দেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রোগ্রাম ডিরেক্টর বিনোদন ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে ফেড রাঙামাটির সাধারণ সম্পাদক নুকু চাকমা ও সদস্য লিপিকা ত্রিপুরার সঞ্চালনায় আলোচনায় বক্তব্য দেন- টিআইবি রাঙামাটির এরিয়া কোর্ডিনেটর বেনজিন চাকমা, ন্যাচার অ্যান্ড বায়োডাইভার্সিটির অব সিএইচটির সংগঠক প্রান্ত রনি, ফেড সদস্য ও পরিবেশকর্মী সৈকত রঞ্জন চৌধুরী, উন্নয়ন কর্মী সুপ্তি দেওয়ান, গোর্কি চাকমা, ঝুমালিয়া চাকমা, প্রকৌশলী গঙ্গা বিজয় চাকমা এবং সাংবাদিক হিমেল চাকমা।

এছাড়াও গোলটেবিল বৈঠকে স্থানীয় সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, গবেষক, পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে মোনঘরের নির্বাহী পরিচালক অশোক কুমার চাকমা বলেন, ‘পরিকল্পনাটি শাসনগত বৈধতা ও স্বচ্ছতার সংকটে নিমজ্জিত দেশের ঘোষিত থ্রি-জিরো ভিশনের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। বাস্তব সমস্যার অবাস্তব ও ভুল দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে এতে। বিদ্যুৎ চাহিদা অতিমূল্যায়ন এবং আমদানিনির্ভরতা জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলবে। এতে নবায়নযোগ্য শক্তিকে গুরুত্বহীন করে ফেলা হয়েছে। এ মহাপরিকল্পনা জনগণের ওপর চাপানো হচ্ছে এবং ন্যায়সংগত রূপান্তরের কোনো অস্তিত্ব নেই। এই মহাপরিকল্পনা শক্তি নিরাপত্তা নয়, বরং ঋণ, আমদানি নির্ভরতা ও জলবায়ু ঝুঁকির নতুন ফাঁদ।

এসময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। গণশুনানি ছাড়া মহাপরিকল্পনা গ্রহণ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। এটি বাংলাদেশকে জ্বালানি আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করবে যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর বিপর্যয় সৃষ্টি করবে প্রাকৃতিক স্রোতধারা, বন, জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বক্তারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ বাতিল করে নবায়নযোগ্যভিত্তিক নতুন পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান।

শেষে সমাপনী বক্তব্যে ফেড রাঙামাটির সভাপতি মুজিবুল হক বুলবুল বলেন, এই মহাপরিকল্পনা দেশের জ্বালানি ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জনগণের মতামত, বিজ্ঞান ও প্রকৃতি—এই তিনের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়াই সময়ের দাবি।

পড়ুন: টাঙ্গাইলে ৮টি আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৬০

দেখুন: ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেলে পদ্মা নদীর ভাঙনে জমি, বসত ঘর | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন