বিজ্ঞাপন

রাজনীতির মাঠে বন্ধুর পাশে বন্ধুরা: নেত্রকোনায় ৯১ ও ৯২ ব্যাচের ঈদ পুনর্মিলনী

“প্রাণে নেত্রবন্ধু, হৃদয়ে বন্ধন-দুই ব্যাচের এক মহামিলন।” এই স্লোগানকে সামনে রেখে নেত্রকোনার সাকুয়ায় সারা কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এসএসসি ১৯৯১ ও ১৯৯২ ব্যাচের এক আবেগঘন ঈদ পুনর্মিলনী। ‘বন্ধন ৯১’ এবং ‘নেত্রবন্ধু ৯২’ এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিলনমেলা শুধু শৈশবের স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। অনুষ্ঠানে শুরুতে প্রয়াত বন্ধুদেরকে স্মরণ ও তাদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিনের পুরোনো বন্ধুরা যখন একত্রিত হন, তখন শৈশবের স্মৃতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে আগত বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত বন্ধুরা দলমত নির্বিশেষে তাদের বন্ধু, নেত্রকোনা জেলা বিএনপি’র নেতা ও জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনিকে আগামী পৌর নির্বাচনে ‘নগরপিতা’ হিসেবে দেখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল মেয়র পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনির আবেগঘন ও রূপকধর্মী বক্তব্য। তিনি তার বক্তব্যে হাটে গরু বিক্রি এবং কৃষকের জমিতে দিনমজুরের (কামলা) কাজের উদাহরণ টেনে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই শহরের মানুষের সেবা করে আসছি। আমি এমন একজন মানুষ যে সারা জীবন অন্যের জমিতে কামলা দিয়েছি, কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আমি যাতে আরও বড় পরিসরে মানুষের সেবা করতে পারি।”

শৈশবের স্বপ্নের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম আর্মি অফিসার বা এমপি হবো। সেই স্বপ্নের পথ ধরে আমি নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র হওয়ার স্বপ্ন লালন করছি। আমি চাই একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নেত্রকোনা গড়তে।” তিনি উপস্থিত বন্ধুদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, “আপনারা কি আল্লাহর ওয়াস্তে আমার পাশে থাকবেন?” জবাবে উপস্থিত সকল বন্ধু সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে তার প্রতি সমর্থন জানান।

অনুষ্ঠানে বন্ধন-৯১ এর আহ্বায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল গণি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আজকের এ আয়োজন কোনো সাধারণ অনুষ্ঠান নয়, এটি একটি ‘টাইম মেশিন’। এই টাইম মেশিন আমাদের ১৯৯১-৯২ সালে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।” তিনি রনিকে একজন পরিপক্ক রাজনীতিবিদ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “নেত্রকোনার রাজনীতিতে রনি এখন অপ্রতিদ্বন্ধী। আমাদের উচিত দলমত নির্বিশেষে তাকে সাহায্য করা, যাতে সে মেয়রের আসনে বসতে পারে।”

নেত্রবন্ধু-৯২ এর বন্ধু এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার তার বক্তব্যে বন্ধুত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি বলেন, “সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আমার রাজনীতি করার কথা নয়, কিন্তু বন্ধুত্বের কোনো সীমারেখা নেই। রনি আমাদের ভাই এবং বন্ধু। আমরা ৯১, ৯২, ৯৩ ও ৯৪ ব্যাচের সবাই একত্রিত হয়ে তার পক্ষে কাজ করব। সে মেয়র হওয়ার যোগ্যতা রাখে।”

বন্ধন-৯১ এর আরেক বন্ধু ইঞ্জিনিয়ার শফিউল আলম আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “বন্ধু মানেই একটি সেতুবন্ধন। আমরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে নেত্রকোনার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। রনিকে আমরা সমর্থন করি এবং তার যেকোনো প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকব।”

নেত্রবন্ধু-৯২ এর সদস্য মাহবুবু গাফ্ফার তোলন তার বক্তব্যে ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, “আমাদের চারদিকে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে আমাদের এক সাথে পথ চলতে হবে। যে মানুষটি সবচেয়ে যোগ্য, তাকেই আমাদের সামনে এগিয়ে দিতে হবে একটি সুন্দর নেত্রকোনা গড়ার জন্য।”

আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য ও ব্যবসায়ী মোখলেছুর রহমান উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার ঈদের পরের দিন এই আনন্দঘন মুহূর্তে বন্ধুদের মিলনমেলা আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

নেত্রকোনা আবু আব্বাছ ডিগ্রী কলেজের সহকারি অধ্যাপক নাজমুল কবির সরকার ও নেত্রকোনা সদর উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিউল আলমের সঞ্চালনায় দুই ব্যাচের এই ‘মহামিলন’ নেত্রকোনার রাজনীতিতে এক নতুন বন্ধুত্বের ও ঐক্যের বার্তা।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী ও দুই ব্যাচের বন্ধুদের পরিবেশনায় মনমুগ্ধকর গান এবং ‘র‌্যাফেল ড্র’-এ ডিপ ফ্রিজসহ ৩০টি আকর্ষনীয় পুরস্কার বন্ধুদের এ আয়োজনকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলে।

পড়ুন- ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা

দেখুন- নানা আয়োজনে সারাদেশে উদযাপিত হলো ঈদুল ফিতর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন