দিনভর কাজের পর বাসায় ফিরে অনেকেরই অভ্যাস খাবার খেয়ে সরাসরি বিছানায় যাওয়া। মনে হয় এতে সমস্যা কী। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ছোট অভ্যাসটাই নীরবে আপনার ওজন কমা, ঘুমের মান, এমনকি শরীরের মেরামত প্রক্রিয়াও নষ্ট করছে।হায়দরাবাদের চিকিৎসক ডা. পূজা রেড্ডি জানান, ঘুমানোর আগে খেলে শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্যাট-বার্নিং সময়টাই আপনি নষ্ট করে দেন।
বিজ্ঞাপন
রাতে আমাদের শরীর যা ঘটে: আমরা ঘুমালেই শরীর বন্ধ হয়ে যায় এটা ভুল ধারণা। বরং তখনই শরীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে:
- কোষ মেরামত
- পেশি পুনর্গঠন
- হাড় শক্ত করা
- চর্বি পোড়ানো
- ত্বক তরুণ রাখা
- ঘুমের প্রথম দুই ঘণ্টায় শরীর থেকে প্রচুর গ্রোথ হরমোন বের হয়। এটাই মূলত রাতের “ফ্যাট-বার্নিং ও অ্যান্টি-এজিং” হরমোন।
- তবে ঘুমানোর আগে খেলে যা হয়: চিকিৎসকরা বলছেন আমাদের শরীর রাতে নিজেকে মেরামত করে। কিন্তু আপনি যখন খাবার খেয়েই ঘুমাতে যান শরীরে কিছু সমস্যা দেখা যেয়। আসলে খাবার খেলেই শরীরে ইনসুলিন বাড়ে। আর ইনসুলিন বাড়লে গ্রোথ হরমোন বের হতে পারে না। অর্থাৎ, আপনি ঘুমালেও শরীর আর নিজেকে মেরামত করতে পারে না। যার ফলে কিছু জটিলটা দেখা দেয়। যেমন:
- ফ্যাট কমে না
- পেশি ঠিকমতো তৈরি হয় না
- সকালে ক্লান্ত লাগে
- ওজন কমে না
- ত্বক নিস্তেজ হয়
- ঘুমও নষ্ট হয়
- ঘুমের আগে খেলে আরও কিছু সমস্যা দেখা যায়—
- অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালা
- হজমের সমস্যা
- অস্থির ঘুম
- বারবার ঘুম ভাঙা
- আপনি ঘুমাচ্ছেন কিন্তু শরীর বিশ্রাম পাচ্ছে না।
- সমাধান: চিকিৎসকরা এই সমস্যার সমাধানের কিছু উপায় জানিয়েছেন। যেটা আপনাকে সুস্থ রাখবে। এগুলো হলো:
- ঘুমানোর ৩–৪ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন
- খাবারে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখুন
- এতে ক্ষুধাও কম লাগবে, ঘুমও ভালো হবে
- অনেকে ডায়েট করে, জিম করে তবু ওজন কমে না। কারণ শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাতের ঘুম শুধু বিশ্রাম নয় এটাই শরীরের “রিপেয়ার শিফট”। আর আপনি যদি সেই সময় পেট ভরে খাবার খান তখন শরীর কাজ শুরুই করতে পারে না। তাই ঘুমানোর ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আগে খাবার খেতে হবে।
পড়ুন:৮০ কোটির প্রস্তাব ফেরালেন বিজয়-রাশমিকা
দেখুন:মাদারীপুরে ঘরের তালা ভেঙে বৃদ্ধার ঘরে যা দেখলো পুলিশ
ইম/


