২৭/০২/২০২৬, ১৫:১৫ অপরাহ্ণ
31.6 C
Dhaka
২৭/০২/২০২৬, ১৫:১৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভোল্যুশন’ , আট সিনেমার পাঁচটিই হয়নি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনকে পর্দায় তুলে ধরতে গত বছরের ৭ জানুয়ারি আটটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

বিজ্ঞাপন

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভোল্যুশন’ কার্যক্রমের আওতায় ছবিগুলো নির্মাণের দায়িত্ব পান আট নির্মাতা। দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন—অনম বিশ্বাস, হুমায়রা বিলকিস, নুহাশ হুমায়ূন, শঙ্খ দাশগুপ্ত, শাহীন দিল–রিয়াজ, রবিউল আলম রবি, তাসমিয়াহ্ আফরিন মৌ ও মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আট বিভাগীয় শহরে নির্মাণে আগ্রহী তরুণদের নিয়ে কর্মশালা করাবেন এই আট নির্মাতা। কর্মশালা থেকে নির্বাচিত তরুণদের নিয়ে প্রতিটি বিভাগে একটি করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন নির্মাতা। গত জুলাইয়ে এসব চলচ্চিত্র মুক্তিরও কথা ছিল। তবে কোনোটিই মুক্তি দিতে পারেনি বিগত সরকার।

সরকারি অর্থায়নে ছবিগুলো নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আটটির মধ্যে শেষ পর্যন্ত তিনটি সিনেমায় অর্থায়ন করেছে সরকার।

শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী প্রথম আলোকে জানান, তাঁরা তিনটি চলচ্চিত্র পেয়েছেন। এগুলো হলো রবিউল আলম রবির ‘কিল মি লাইক আ ডগ’, হুমায়রা বিলকিসের ‘গুম গল্প নয়’ আর শাহীন দিল-রিয়াজের ‘মুখোমুখি’।

‘কিল মি লাইক আ ডগ’ সিনেমায় ফ্রানৎস কাফকার উপন্যাস ‘দ্য ট্রায়াল’-কে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছেন রবিউল আলম রবি। এতে মীর নওফেল আশরাফীসহ অনেকে অভিনয় করেছেন। নির্মাণ শেষ করে জানুয়ারিতে এটি শিল্পকলা একাডেমিতে জমা দেন তিনি।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘গুম গল্প নয়’ তৈরি করেছেন হুমায়রা বিলকিস। প্রামাণ্যচিত্রটি জানুয়ারির শেষভাগে জমা দেন তিনি।

প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা শাহীন দিল-রিয়াজ নির্মাণ করেছেন প্রামাণ্যচিত্র ‘মুখোমুখি’, এটি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জমা পড়েছে।

শাহীন দিল-রিয়াজ প্রথম আলোকে জানান, এতে জুলাই আন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শীদের পার্সপেক্টিভ (দৃষ্টিভঙ্গি) তুলে ধরা হয়েছে। দৃশ্যধারণের পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের ফুটেজও ব্যবহার করা হয়েছে।

বাকি পাঁচটি চলচ্চিত্র আলোর মুখ দেখেনি। শুটিং শুরুর আগেই প্রতিটি চলচ্চিত্রের বাজেটের ৫০ শতাংশ অর্থ সরকারকে দেওয়ার কথা ছিল। তবে পাঁচটি চলচ্চিত্রকে সেই অর্থ দেওয়া হয়নি।

অভ্যুত্থান নিয়ে ‘কতটা গুলি থাকলে তবে মানুষ মরে যায়’–এর চিত্রনাট্য জমা দেন শঙ্খ দাশগুপ্ত। সেই চিত্রনাট্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও পেয়েছে। তবে আট মাসেও অর্থ না পাওয়ায় সিনেমার কাজ শুরু করতে পারেনি বলে জানান নির্মাতা।

অনম বিশ্বাসও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে গল্প ভেবেছিলেন। নাম চূড়ান্ত না হওয়া সেই চলচ্চিত্র নিয়ে তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে খেটে খাওয়া মানুষের অংশগ্রহণ নিয়ে গল্প লিখেছিলেন।

অনম বিশ্বাস বলেন, ‘গল্প জমা দিয়েছি, তবে ফান্ড পাইনি। ফলে সিনেমাটির কাজ শুরু করতে পারিনি।’

গ্রামের এক পুকুর চুরির গল্প নিয়ে চিত্রনাট্য লিখে জমা দেন মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অর্থ পাননি তিনি।

মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম জানান, প্রথম ইনস্টলমেন্টের (৫০ শতাংশ) অর্থ পেলে সিনেমাটির কাজ শুরু করতেন। না পাওয়ায় কাজটা আর করা হয়নি।

তাওকীর বললেন, মাস চারেক ধরে পরিশ্রম করে গল্পটি লিখেছিলেন। সহলেখকসহ অনেকের শ্রম ছিল। তবে গল্পটা কোনো কাজে লাগল না।

পরিচালকের তালিকায় নুহাশ হুমায়ূনের নাম থাকলেও তিনি পরিচালনায় নিজেকে যুক্ত করতে চাননি। নুহাশ হুমায়ূন জানান, আগেই তিনি বলে রেখেছিলেন, কোনো সিনেমা পরিকল্পনা করবেন না। শুধু কর্মশালার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মাতা আরিফুর রহমানের একটি প্রামাণ্যচিত্রে তাঁর যুক্ত থাকার কথা ছিল। প্রামাণ্যচিত্রের সারসংক্ষেপ জমা দিলেও কাজটা আর হয়নি। এটি নির্মিত হলে তিনি সুপারভাইজ করতেন।

আরেক নির্মাতা তাসমিয়াহ্ আফরিন মৌ জুলাই নিয়ে ‘লাল’ নামে একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য জমা দেন। তবে অর্থ না পাওয়ায় তিনিও কাজটি শুরু করতে পারেননি।

‘রিমেম্বারিং মনসুন রেভোল্যুশন’–এর সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের সাবেক উপপরিচালক জসীমউদ্দিন জানান, তাঁরা দুই দফায় আটটি চিত্রনাট্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কারিগরি কমিটিকে পাঠিয়েছেন।

আটটির মধ্যে পাঁচটির কাজ কেন হলো না?—জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারিগরি কমিটির এক সদস্য জানান, আটটি চিত্রনাট্যেরই অনুমোদন দিয়েছেন তাঁরা। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে পাঁচটি ঝুলে আছে। এসব চলচ্চিত্র না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁর কাছে হালনাগাদ তথ্য নেই।

সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিলো। বক্তব্য জানতে চাইলে সুনির্দিষ্টভাবে আট সিনেমা নিয়ে তাঁর কাছ থেকে উত্তর মেলেনি।

পড়ুন- জবাবদিহিতার পরিধি নির্ধারণ করে গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: তথ্যমন্ত্রী

দেখুন- প্রথম কর্মদিবসেই মশক নিধনে মাঠে নামলেন গাজীপুর সিটি প্রশাসক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন