মাত্র ১৭ সেকেন্ডের ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের ক্ষত বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। গত দুদিনের বেশ কয়েকবারের ভূমিকম্পে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কারখানার ভবন, ভুলতা ফ্লাইওভারের এপ্রোচ অংশ, মুড়াপাড়া – কায়েতপাড়া শীতলক্ষ্যা সেতুর স্লাব,রূপগঞ্জ থানা ভবনসহ ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।
সরকারী স্থাপনা এবং রাস্তার পাশের পাকা ভবনগুলোর খবর জানা গেলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ফাটল দেখার পরও সরকার ভেঙে দিবে বিবেচনায় তথ্য গোঁপনের অভিযোগ ওঠেছে আবাসিক বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। সূত্রমতে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের শত শত পাকা বহুতল ভবন, সরকারী ব্রিজ,কালভার্টসহ মেগা প্রকল্পের স্থাপনা। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ভেঙে ফেলা হতে পারে ভয়ে আবাসিক ভবনের ফাটলের তথ্য দিচ্ছেন না বাসিন্দারা।
গত শুক্রবারের ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিলো রূপগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন নরসিংদীর ঘোড়াশালে। এতে তীব্র ঝাঁকুনির প্রভাবে দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প ভুলতা ফ্লাইওভারের গোলাকান্দাইল ঢাকা বাইপাস সড়ক মোড়ে এপ্রোচ অংশে ফাটল দেখা দেয়। এছাড়াও রূপগঞ্জ থানা ভবনে ফাটল, উপজেলার আবাসিক এলাকার পুরাতন প্রায় অর্ধশত ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ম্যাক্স সোয়েটার্স কারখানা ভবনে ফাটল দেখা দিলে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে ভবনটি ঝুঁকিমুক্ত ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ওসমান গনি বলেন, রূপগঞ্জে গত ৩০ বছর ধরে জলাশয় ভরাটের হিড়িক পড়েছে। ইতোমধ্যে বালির তলায় খাল,বিল,দীঘি,পুকুর। ফলে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যের প্রভাবে বাড়ছে টেকটনিক প্লেটের চাপ। ফলে মৃত্যুকুপে পরিণত হতে যাচ্ছে নগরী।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৮০ এর দশকে নির্মিত থানা ভবনটি পুরোপুরি ভূমিকম্প অসহনীয় পর্যায়ে। গত শুক্রবারের ভূমিকম্পে থানা ভবনের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। যদিও কোন হতাহত হয়নি। তবে যে কোন সময় দূর্ঘটনার শিকার হতে পারি।
স্থানীয় বাসিন্দা এমরান ভুইয়া বলেন, গাজী সেতুতে ফাটল দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের কেউ পরিদর্শনে যাননি।
এদিকে উদাসিনতার কথা জানালেন এলজিইডি প্রকৌশলী। সেতুতে ফাটল দেখা দিলেও তা ঝুঁকিপূর্ণ নয় দাবী করে উপজেলার কোথায় কোথায় সেতু বা সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা নাই উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা আকতার হোসেনের । তিনি বলেন, আহামরি কোন ক্ষতি হয়নি। তবে তথ্য পেলে উর্ধতন মহলকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আইমিন সুলতানা বলেন, ভূমিকম্পে দেয়াল ধ্বসে ফাতেমা নামের শিশু মারা গেলে সরকারীভাবে ২০ হাজার অনুদান দেয়া হয়। তার পরিবারের আহতদের মাঝে ১৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। তবে রূপগঞ্জের জলাশয় ভরাট করে অপরিকল্পিত আবাসন কোম্পানির দৌড়াত্ন্য, বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মান, আগাম সতর্কতা না থাকায় বৈশ্বিক জলবায়ুর সামঞ্জস্য রক্ষায় জনগণকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া বিকল্প উপায় দেখছেন না দুর্যোগ প্রশমন বিভাগ।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগে মোকাবেলায় সারাদেশের মতো রূপগঞ্জেও নেই সচেতনতা। জলাশয় ভরাট ও অপরিকল্পিত আবাসন ভবন করাতে এ ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করেন নাগরিক সমাজ।
পড়ুন- চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই তরুনের মর্মান্তিক মৃত্যু


