বিজ্ঞাপন

রূপসায় ৩ হাজার সনাতনীদের একটি সার্বজনীন মন্দির: তবুও মিলেনি সরকারি অনুদান

প্রায় ৩ হাজার সনাতন ধর্মালম্বীদের পূর্জার্চনা করার মাত্র একটি সার্বজনীন মন্দির হওয়া সত্ত্বেও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের রূপসায় কেউই সেখানে এখন পর্যন্ত সরকারি দান অনুদান পৌঁছাতে এগিয়ে আসেনি। তবুও মন্দিরটিতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী হতে শুরু করে রাস পূর্ণিমা সবই হচ্ছে সনাতন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে।

৮ নভেম্বর শনিবার বিকালে রাস পূর্ণিমা উৎসবের শেষ দিনে মন্দিরটি পরিচালনায় আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে এসব কথা জানান মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ।

আলোচনায় থাকা মন্দিরটি হচ্ছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির। এটি ১৫নং রূপসা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কুরিপাড়ায় অবস্থিত। মন্দিরটি পরিচালনায় একটি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। তারাই নিজেরা সামর্থ্যানুযায়ী মন্দিরটির সংস্কারসহ পূজার্চনায় যাবতীয় অর্থ নানাভাবে সংগ্রহ করে ব্যায় করেন।

শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শান্তি চন্দ্র শীল বলেন, এই মন্দিরটি নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং-১১০৩৭/চাঁদপুর/ফরি/০৯) এবং এটি প্রায় ৪ যুগ পূর্বে দেবোত্তর সম্পত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী হতে শুরু করে ধর্মীয় পূজার্চনা হয়। রাস পূর্ণিমায় ৮ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হয়। এ সময়ে মন্দিরে নামযজ্ঞ ও মেলা হয় এবং প্রতিদিনই দিনে রাতে আড়াই থেকে ৩ হাজার সনাতনীরা এখানে প্রসাদ পেয়ে থাকে। মন্দিরটির সরকারি তালিকাভুক্ত হলেও অদ্যাবধি সরকারি, বেসরকারি বা হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট হতে কোন দান অনুদান না পাওয়ায় আমরা চরম হতাশ।

শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ চন্দ্র কুরি বলেন, ধর্মীয় পূজার্চনায় মন্দিরটিতে দূর দূরান্ত থেকে ভক্তসমাগম হয়। যা ৮/১০ হাজার সনাতনীর কম হবেনা। আমরা মন্দিরটির আধুনিক ভবন প্রায় দেড় যুগ পূর্বে করেছি। এখন ৪ তলা বিশিষ্ট মন্দিরের ভবন করার ইচ্ছে রয়েছে। কিন্তু তাতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার জন্য সরকারি দান অনুদান একান্তভাবে প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধি, সমাজ সেবক, দানশীল ও মানবতাবাদীরাসহ প্রশাসন এই মন্দিরটি টিকিয়ে রাখতে এবং আধুনিকায়ন রূপ দিয়ে পরিচালনায় আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ ঝন্টু চন্দ্র কুরি বলেন, আমরা মন্দিরের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরাসহ চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টুনী দেয়ারও উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু এতে সবাই যদি আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে কাজ করতে সহজ হয়। এই অঞ্চলে পারিবারিক পরিচালিত মন্দির থাকলেও দেবোত্তর সম্পত্তিতে সার্বজনীন মন্দির শুধুমাত্র এটিই। তাই ইচ্ছে আছে এখানে গুরু কূল চালু করার। যেখানে গুরুর অধীনে থেকে সনাতনী ধর্মীয় কৃষ্টি কালচারের শিক্ষা নিয়ে আগামীর সনাতনী ছেলে মেয়েরা বেড়ে উঠবে এবং সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।

এসময় শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বিরেন্দ্র চন্দ্র কুরি, উপদেষ্টা পরিক্ষীত চন্দ্র সাহাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : চাঁদপুরের এনসিপিতে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টি ও জাসদের শতাধিক নেতাকর্মী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন