নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় রূপসী নিউ মডেল স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং ফি’র নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ শিক্ষার্থীদের হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। খোঁদ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশীদের নির্দেশনায় এমন হয়রানী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী অভিভাবক ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় , রূপসী নিউ মডেল স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় সরকারি ফি ২ হাজার ৪ শত ৩৫ টাকার স্থলে শিক্ষার্থীদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে কোচিং ফি’র নামে ৪ হাজার টাকা বেশি আদায় করা হয়েছে।কোচিং ফি’র টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিলেও সপ্তাহে ৩ মাসের মধ্যে মাত্র ৬ /৭ দিন শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হয়। এদিকে এসএসসি পরীক্ষা ঘনিয়ে আসলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আবারো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৮ শত টাকা করে দাবি করতে থাকে। আর একবার কোচিংয়ের জন্য টাকা দেওয়ার পর আবারো কোচিং ফি নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের চাপ দেওয়ায় ক্ষূব্ধ অভিভাবকরা। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত অর্থ প্রদান না করলে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং তাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভালো ফলাফলের আশ্বাস দিয়ে কোচিংয়ে বাধ্য করে কোচিং ফি একবার নেয়া হয়েছে। কোচিংয়ের নামে ৩ মাসে ৭ দিন কোচিং করেই ফি চাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কোচিং ফি অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বহন করা কঠিন।”
কয়েকজন শিক্ষার্থীও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোচিং ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে বা নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে দেরি হলে শিক্ষকদের কাছ থেকে বিরূপ আচরণের শিকার হতে হচ্ছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
সচেতন মহল মনে করছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন উর রশিদ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্যে একটু চাপ দিয়ে থাকি। তবে ফরম ফিলাপের সময় সাড়ে তিন হাজার টাকা নিয়েছি । নতুন করে বিদায় অনুষ্ঠান ও কিছু অনিয়মিত শিক্ষার্থী আছে তাদের কাছ থেকে কিছু নেয়া হচ্ছে।
এ ব্যপারে রূপসী নিউ মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফয়জুল কবীর মুঠোফোনে বলেন, আমি বোর্ডে আছি। এ বিষয়ে জানা নাই। আমি আসলে বেশি টাকা নেইনি। আগের ৪ হাজার টাকা নেয়া হইছিলো। কেন্দ্র ফিসহ যা খরচ হয় তাই নিয়েছি। নতুন করে টাকা নেয়া হয়ে থাকলে আমার নলেজে নাই। আগামীকাল স্কুলে গিয়ে দেখবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়ে থাকলে আমি ব্যবস্থা নেব। আরও কোন প্রতিষ্ঠানে হলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। সব প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হবে।
পড়ুন- করোনা ভ্যাকসিন ক্রয়ে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা ব্যয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


