33.3 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ১৫:৫৩ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

রোমাঞ্চকর ম্যাচে ২ উইকেটে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করলো বাংলাদেশ

শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আবারও নুরুল হাসান সোহানের দৃঢ়তায় দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে জাকের আলীর দল।

বিজ্ঞাপন

শারজাহতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টাইগাররা পড়ে যায় চাপের মুখে। একদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো, অন্যদিকে রান তোলার চাপ, দুয়ের মাঝেই ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে। সেখানেই দৃঢ়তায় ভর করে ২ উইকেট হাতে রেখে দারুণ এক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করায় উচ্ছ্বাসে ভাসছে জাকের আলির শিষ্যরা। এ জয় শুধু সিরিজ জয়ের আনন্দই নয়, বরং সাম্প্রতিক ব্যর্থতার হতাশা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ারও বড় সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশের জন্য।

এক দিক দিয়ে ব্যবধান কমছে, অন্যপ্রান্তে উইকেটও পড়ছে বাংলাদেশের। তাতে শেষ দিকে রোমাঞ্চকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে ম্যাচ। সাইফউদ্দিন আগের বলে চার মারলেও ১৭.৩ ওভারে ওমরজাইর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ৪ রানে। তাতে ১২৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। একই ওভারে ওমরজাই জোড়া আঘাতে রিশাদকেও বোল্ড করেছেন ২ রানে। তখন ১২৯ রানে বাংলাদেশ হারায় অষ্টম উইকেট!

শামীমের আউটের পর দ্রুত গতিতে রান তুলে ব্যবধান কমাচ্ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। সঙ্গী ছিলেন নাসুম। ১৭তম ওভারে নাসুমকে বোল্ড করে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান রশিদ খান। নাসুম ১১ বলে ১ ছক্কায় ১০ রানে বোল্ড হয়েছেন।

জাকেরের সঙ্গে মিলে জুটি গড়েছিলেন শামীম। জাকের আউট হলে নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে দ্রুত গতিতে রান তুলছিলেন। তাদের ব্যাটেই স্কোর একশ ছাড়ায় ১৪তম ওভারে। ১৫তম ওভারের শুরুর বলে শামীমকে ৩৩ রানে থামিয়েছেন নূর আহমেদ। শামীম মেরে খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়েছেন। তার ২২ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছক্কা।

২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের সেই ধাক্কার পর বাংলাদেশকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নিতে থাকেন জাকের আলী ও শামীম হোসেন। চতুর্থ উইকেটে ৩৬ বলে ৫৬ রান যোগ করেন তারা। ১০.৫ ওভারে জাকের আলীকে এলবিডাব্লিউতে আউট করে জুটি ভেঙেছেন রশিদ খান। তাতে ৮০ রানে পড়েছে চতুর্থ উইকেট। জাকের রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি। তার ২৫ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ২টি ছয়।

পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ৫ ওভার শেষে স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৬। শেষ ওভারে একটি চার ও ছক্কা মেরে স্কোরটা ৩৭ রানে নেন শামীম।

১৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর সাইফ হাসান চড়াও হচ্ছিলেন। তখন তার ওপরই নির্ভর করছিল রানের চাকা। ৪.৪ ওভারে মুজিব উর রহমানের বলে মেরে খেলতে গিয়ে অটলের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরতে বাধ্য হন সাইফ। ফেরার আগে ১৪ বলে ১৮ রান করেন তিনি। তাতে ছিল ২টি ছক্কা ও একটি চারের মার। তাতে পাওয়ার প্লেতে ২৪ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

১৪৮ রানের লক্ষ্যে শুরুতেই চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে পেসার ওমরজাইর শিকার হন ওপেনার তানজিদ হাসান। রশিদ খানকে ক্যাচ দিয়ে ২ রানে ফিরেছেন তিনি। ৩.১ ওভারে আবার আঘাত হানেন ওমরজাই। আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেনকে (২) এলবিডাব্লিউতে ফেরান তিনি। তাতে ১৬ রানে শুরুতে দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আফগানিস্তানকে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটে ১৪৭ রানে থামিয়েছে বাংলাদেশ। লাল-সবুজদের টাইট বোলিংয়ে স্কোর গড়তে হিমশিম খেয়েছে রশিদ খানের দল।

শুরুর দিকে অটল (২৩), ইব্রাহিম (৩৮) ও গুরবাজ (৩০) ভালো অবদান রাখলেও মাঝের ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচে ফিরতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ইনফর্ম মোহাম্মদ নবী শেষ দিকে খেলেছেন ১২ বলে গুরুত্বপূর্ণ ২০ রানের ইনিংস। তাতে ছিল ২টি চার ও ১ টি ছক্কা। তাতেই স্কোরটা প্রায় দেড়শর কাছে গেছে। সঙ্গী আজমতউল্লাহ ওমরজাই ১৭ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন।

পড়ুন : সিরিজ জিততে বাংলাদেশের দরকার ১৪৮ রান

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন