১৪/০১/২০২৬, ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
16 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

লালন মাজার প্রাঙ্গণ বাউল-দর্শনার্থীতে মুখর

ফকির লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার(১৭ অক্টোবর) বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনমিনিটের ভিডিও বার্তায় প্রধান অতিথি স্ব-শরীরে উপস্থিত থাকতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার,সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন ষ্টালিন।

জেলা প্রশসাক ও লালন একাডেমীর সভাপতি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন আন্তজার্তিক খ্যাতিমান লেখক গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক। অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট চিন্তক ও গবেষক ফরহাদ মজহার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ আল মামুন।

বিজ্ঞাপন


আলোচনা সভা শেষে উদ্বোধনী দিনে প্রয়াত সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের স্মরণে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং গভীর রাত অবধি চলে লালন সংগীতের আসর। এদিকে,কালী নদীর তীরে বিশাল মাঠে শতাধিক অস্থায়ী দোকান বসেছে। প্রবেশপথ, আখড়াবাড়ি (বারামখানা) ও মেলার মাঠ চত্বর কোথাও যেন তিল পরিমাণ জায়াগা ফাঁকা নেই। লালন সাধু – ভক্তদের পদচারণায় মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। সন্ধায় মাজার প্রাঙ্গনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। গুরু শিষ্যের ভাব বিনিময় ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হয় ফকির লালন শাহের ১৩৫ তম তিরোধান দিবসের সাধুসঙ্গ।

শনিবার সকালে বাল্যসেবা ও দুপুরে পূর্ণ সভার মধ্যদিয়ে এ সাধুসঙ্গ শেষ হবে বলে জানান বয়োজ্যেষ্ঠ হৃদয় সাধু। তাঁর ভাষ্য, লালন শাহের প্রতি প্রেম – ভালবাসার টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তবৃন্দ ছুটে এসেছেন। তাঁদের পদচারণায় মুখরিত আখবাড়ি মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। সাধু-ভক্তরা বলছেন, এ বছর উৎসব শুরুর সপ্তাহখানেক আগে থেকে প্রচুর মানুষ আসছে। শুরুর দিনে পা ফেলার জায়গা ফাঁকা নেই। মায়ার টানে, আত্মার টানে সাধু-ভক্তরা ছুটে আসছেন ধামে।

আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ বাদ্যযন্ত্র ও গানে গানে মুখর হয়ে উঠছে। লালন শাহের মাজারে আসা শান্ত শাহ বলেন, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার যে বাণী লালন সাঁইজি প্রচার করে গেছেন তাঁর জীবদ্দশার তা আজও ফাল্গুন ধারার মত প্রবাহমান। ১২৯৭ বঙ্গা‌ব্দের প‌হেলা কার্তিক লালন সাঁই কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়া গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন। এর পর থেকে আখড়াবাড়ি চত্বরে তাঁর ভক্ত-অনুসারীরা তাঁদের সাঁইজিকে স্মরণ করে আসছেন।

লালন একাডেমি প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ায় একাডেমি চত্বরে লালন স্মরণোৎসবের আয়োজন করলেও এবারই প্রথম এই আয়োজন হচ্ছে রাষ্ট্রীয়ভাবে।

পড়ুন : কু‌ষ্টিয়ায় বো‌নের ৮ বিঘা জ‌মির সরিষা বিন‌ষ্ট করলো ভাই

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন