সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাটের তিনটি আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থীরা। জেলার তিনটি আসনে মোট ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মাঠে জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন মাত্র ৬ জন। বাকি ১৬ জন প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী মোট বৈধ কাস্টিং ভোটের আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫%) না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। লালমনিরহাট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ধানের শীষ’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীরা বাদে আর কেউই নূন্যতম ভোট নিশ্চিত করতে পারেননি। জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং ৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
লালমনিরহাট-১: হেভিওয়েটসহ ৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত
লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে মোট ভোটার ৪,০৩,৫৬১ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ২,৯১,২২২টি এবং বৈধ ভোটের সংখ্যা ২,৮৪,৯৮১টি।
এই আসনে ১,৩৮,৬৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাসান রাজীব প্রধান (ধানের শীষ)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১,২৯,৫৭২ ভোট।
জামানত হারানো ৭ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট, শিহাব আহমেদ (স্বতন্ত্র, ঘোড়া) ৭,৯৫৯,মশিউর রহমান রাঙ্গা (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ৫,১৫৮,মোহাম্মদ ফয়জুল করিম শাহরিয়ার (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা)২,২৪২,রেজাউল করিম সরকার (স্বতন্ত্র, মোটরসাইকেল) ৮০৪,হাবিব মোহাম্মদ ফারুক (জাসদ, মোটরগাড়ি) ২২৬,আবু সালামা মো.রেদওয়ানুল হক (স্বতন্ত্র, তালা) ১৯১, শুভ আহমেদ (লেবার পার্টি, আনারস) ১৪৩
লালমনিরহাট-২: জনতার দলের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের ভরাডুবি
লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী ছিলেন। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪,৩২,৯৬৫ জন। মোট ভোট পড়েছে ২,৭৯,৩৯৩টি, যার মধ্যে বৈধ ভোট ২,৭৩,৬৬২টি।
এখান থেকে ১,২৩,৯৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল (ধানের শীষ)। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফিরোজ হায়দার লাভলু (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১,১৭,২৫২ ভোট।
জামানত হারানো ৫ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট,শামীম কামাল (চেয়ারম্যান, জনতার দল, কলম): ২০,১২৭,মাহফুজুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা)৬,৯৩৯,মমতাজ আলী (স্বতন্ত্র, মোটরসাইকেল)৩,৪৯৯,নিমাই চন্দ্র রায় (সিপিবি, কাস্তে)১,০৮৯,এলাহান উদ্দিন (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল)৮১০
লালমনিরহাট-৩: দুলুর বিশাল জয়, জামানত হারালেন ৪ জন
লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৬ জন প্রার্থী। মোট ভোটার ৩,০৭,৯৭০ জন। এখানে বৈধ ভোটের সংখ্যা ২,৩২,৬২৬টি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু ১,৩৯,৬৫১ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু তাহের (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৫৬,২৪৪ ভোট।
জামানত হারানো ৪ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট,আমিনুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন, হাতপাখা) ৩,২৮৩,জাহিদ হাসান (জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল) ২,১৫৩,মধুসূদন রায় (সিপিবি, কাস্তে)৮৬৯,দীপক কুমার রায় (গণসংহতি আন্দোলন, মাথাল)৪২৯
নির্বাচনের ফলাফল ও জামানত বাজেয়াপ্ত প্রসঙ্গে লালমনিরহাট জেলা নির্বাচন অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি বিধিমালা অনুযায়ী কাস্টিং হওয়া মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট কোনো প্রার্থী না পেলে তার জামানত সরকারি কোষাগারে বাজেয়াপ্ত হয়। লালমনিরহাটের তিনটি আসনে বিজয়ী এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া বাকি ১৬ জন প্রার্থী এই নূন্যতম ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
পড়ুন:শিক্ষা নিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা
দেখুন:পিরোজপুরে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ হাতপাখা সমর্থকের বিরুদ্ধে |
ইমি/


