ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে স্বপ্ন পূরণের আশায় ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে লিবিয়ার বন্দিশালায় মাফিয়াদের নির্যাতনে মাদারীপুরের আরো এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে সংবাদ পেয়ে আহাজারিতে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এদিকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে দালাল চক্র। এ ঘটনায় দালালের কঠোর শাস্তি সহ নিহতের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা। নিহত জহুরুল ইসলাম ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ধুঁয়াসার গ্রামের সামসু মাতুব্বর ছেলে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ ধূয়াসার নিহত জহুরুল মাতুব্বরের বাড়ি গেলে পরিবার ও স্বজনরা জানায়, বাংলাদেশে কৃষি কাজ করে সংসার চালাতেন জহুরুল ইসলাম। পাশ্ববর্তী ধুলুগ্রাম এলাকার মানবপাচারকারী সক্রিয় সদস্য হানিফ মাতুব্বরের ছেলে জাকির মাতুব্বরের খপ্পড়ে পড়ে ৫ মাস আগে ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন তিনি। সৌদিআরব হয়ে পৌঁছান লিবিয়ায়। এরপর তাকে লিবিয়ায় নিয়ে ডাসার উপজেলার বীর মোহন বিদ্যালয় এলাকার তারেক মন্ডলের( লিবিয়ার) একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। সেই ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক ধাপে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালালচক্র। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও মুক্তিপনের জন্য আরো নির্যাতন করলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন জহুরুল মাতুব্বর। এই ঘটনায় মাফিয়া দালালদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জহুরুলের মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবার ও স্বজনরা। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে ঘরে তালা মেরে পালিয়ে যায় দালাল জাকিরের পরিবার। জহুরুল মাতুব্বরের স্ত্রীসহ দুই শিশু কন্যা রয়েছে। এছাড়া জহুরুলের সাথে নির্যাতনের শিকার একই উপজেলার মধ্য ধুলগ্রাম এলাকার আসসালামু সৈয়দের ছেলে ইমামুল সৈয়দ নিখোঁজ রয়েছে।
নিহতের বাবা সামসু মাতুব্বর জানান, আমার ছেলেকে দালাল অত্যাচার করে মেরে ফেলেছে আমি ছেলের লাশ ও দালালের বিচার চাই।
নিহতের মা আম্বিয়া বেগম জানান, আমি ধার দেনা কিস্তি করে ছেলেকে বিকাশ পাঠাইছি দালালের কথা শুনে। দালাল আমার কাছ থেকে আমার ছেলেকে অত্যাচার করার ভিডিও পাঠিয়ে ৩ দফায় ৫০ লাখ টাকা নিছে তারপর আমার ছেলেকে ওরা ছাড়েনি আর আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে আমি দালালের ফাঁসি চাই আর আমি আমার ছেলের লাশ দেশে চাই।
নিহত জহিরুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার বলেন, আমার সহ-সম্পল সব শেষ করে আমার স্বামীকে বিদেশ পাঠাইছি দালালের কারণে দালাল বলছে কোন সমস্যা হবে না। আমার স্বামীকে নির্যাতন করে না খেয়ে মেরে ফেলেছে এখন আমার এই অবুঝ সন্তানদের কি অবস্থা হবে আমি দালালের ফাঁসি চাই। এতগুলো টাকা দিন আমি কিভাবে দিব দালালের বিচার চাই
দালাল জকিরের প্রতিবেশী পারভীন বলেন, তারা গত রমজান মাসে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। পরে আমরা জানতে পারছি বিদেশে লোক নেয়।
মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনাটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অবৈধ পথে ইতালি যাত্রা প্রবনতা বন্ধের আহ্বানও জানান তিনি।
পড়ুন- রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর : কারাগারে শিরীন শারমিন চৌধুরী


