কুষ্টিয়ার খোকসায় লাখ টাকা দামের ল্যাপটপ চেয়ে প্রত্যাহার হওয়া ওসি মোতালেব হোসেনের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা সদরের বাজারে ব্যবসায়ীদের ব্যানারে ওসির বিচারের দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাহাফুজুর রহমান বর্ষণ তার ওপর ওসি মোতালেব যে মানসিক নির্যাতন করেছে তার বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন,২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর করা আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির গঠন করা হয়। এ কমিটির সদস্য একজন তাকে হুমকি দিয়েছেন। “পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগে পরিণতি কত ভয়াবহ হয় তা তাকে হাড়ে-হাড়ে টের পেতে হবে” বলেও জানিয়েছেন বলে বর্ষণ দাবি করেন। তিনি এখনো নিরাপদ নয় বলে জানান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন ভুক্তভোগী বর্ষণের বাবা গোলাম ছরোয়ার,স্থানীয় ব্যবসায়িক রাজা, আমিনুস সালাম পিয়ারু, আসিনসুজ্জামান সোনা প্রমুখ। বক্তারা প্রত্যাহর করা খোকসা থানার ওসি মোতালেব হোসেনের চাঁদাবাজিসহ অন্য অপরাধের বিচারের দাবি করেন। তারা বলেন, একজন চাঁদাবাজ ওসির বিচার হলে পুলিশের আর কোন সদস্য এহেন অপরাধ করতে ভয় পাবেন।
এর আগে ভুক্তভোগী বর্ষণের (২৭ ফেব্রুয়ারি) অভিযোগের সূত্র ধরে তাকে রবিবার দুপুরে তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে তথ্য প্রমাণ নেওয়া হয়। এর কয়েক ঘন্টা পর রাত ১১ টার দিকে অভিযুক্ত ওসি মোতালেব হোসেন কে প্রত্যাহার করা হয়। ব্যবসায়ী বর্ষণের আবেদনের সত্যতা খুঁজতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগে জানা গেছে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতার কাছে এক লাখ টাকা দামের ল্যাপটপ চেয়েছিলেন থানার ওসি। সেটি এনে দেওয়ার দায়িত্ব দেন বর্ষণকে। তবে ৩০ হাজার টাকা দামের একটি ল্যাপটপ দেওয়া হলে সেটি ফেরত দেন ওসি। এখন লাগাতার হুমকিতে বিপর্যস্ত ওই ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিচার চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ব্যবসায়ী। পরে তা সরিয়ে ফেলতে বাধ্য করা হয়। দেওয়া হয় হত্যার হুমকি।
দুই মাস ধরে চলমান এসব ঘটনায় পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁর সঙ্গে একসময় সখ্য ছিল ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাহাফুজুর রহমান বর্ষণের। তিনি উপজেলা সদরের বাজারের বর্ষণ ইলেকট্রিকের মালিক। তাঁর বাবা গোলাম ছরোয়ার একই বাজারের হার্ডওয়ার পণ্যের ব্যবসায়ী। তারা বলছেন, ওসির পক্ষ নিয়ে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হুমকি দিয়ে গেছেন। ফোনে ব্যবসায়ীকে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার বলেন,একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগীকে উল্টো হুমকি দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানা নেই জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
পড়ুন- স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি: সালাহউদ্দিন আহমদ
দেখুন- নাগরিক অধিকারের দাবীতে হাদি চত্বরে রাজন আলীর আমরণ অনশন


