চরফ্যাশনে ঘূর্ণিঝড় শক্তির আঘাতে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার।
গতকাল বৃহস্পতিবার( ২৯ মে) দিনের বেলায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি সহ হালকা বাতাস থাকলেও রাতের দিকে এ তীব্রতা বৃদ্ধি পায়, গভীর রাতে( ৩০ মে) ঘূর্ণিঝড় শক্তির প্রভাবে উপজেলা জুড়ে তীব্র বাতাস ও ভারী বর্ষণ সৃষ্টি হয়ে কয়েক ঘন্টা স্থায়ী হয়, এর ফলে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন চর কুকরী মুকরী, ঢালচর, চর মুজিব নগর সহ বিভিন্ন চরে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তীব্র বাতাসের ফলে উপজেলার চরাঞ্চল সহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়।
এদিকে ধীরে ধীরে নিম্নচাপ দুর্বল হলেও উত্তাল রয়েছে মেঘনা, তেতুলিয়া ও বঙ্গোপসাগর, ফলে অন্যান্য জেলার সাথে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। গত দুই দিনে বিদ্যুৎ না থাকায় ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিক মতো সচল না থাকায় কার্যত উপজেলার সাথে পুরো দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চর কুকরী মুকরীর বাসিন্দা আমির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার পুরো দিনে বৃষ্টির সাথে বাতাস থাকায় নিচু এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়, রাতের দিকে বাতাসের তীব্রতা বাড়ায় উচু এলাকার অনেক জায়গায় ৪-৫ ফুট পানিতে বাড়ি ঘর ডুবে যায়, আমরা পরিবার নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলাম, শুক্রবার সকালের দিকে পানি কমতে থাকায় বাড়িতে চলে আসছি। ঘুর্ণিঝড় শক্তি বাড়ি, ঘর, ফসলাদি, মৎস্য খামার তছনছ করে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাসনা শারমিন মিথি বলেন , কুকরী মুকরীর চর পাতিলায় ৪ শ, ঢালচর ইউনিয়নে ১ হাজার ও চর মুজিবনগরের শিকদারের চরে ৩শ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। ৭০-৮০ পরিবারের ঘর সম্পূর্ণ বিনষ্ট এবং ৬-৭শ গবাদি পশুর ক্ষতি হয়েছে।
সরকারি ভাবে ৪শ পরিবারকে আজকেই আমরা ত্রান দিচ্ছি। প্রতি পরিবারের জন্য ৩০ কেজি করে চাল ও ডাল-আলু-তেল-চিড়াসহ শুকনো খাবার প্যাকেট থাকবে। ঢালচরে ২শ, চর মুজিবনগরে ১শ এবং চর কুকরী মুকরীতে ১শ পরিবারের মাঝে আজ ত্রান বিতরণ হচ্ছে । আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম দুর্গত এলাকায় পুরোপুরি পৌছাতে হয়তো একটু সময় নেবে। স্থানীয়ভাবে সবাইকে সাহস রাখার আহ্বান জানাচ্ছি ও সহযোগিতা কামনা করছি যাতে দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারি।
এনএ/


