১৭/০২/২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
১৭/০২/২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

শহীদ ওসমান হাদী স্মরণে ঝালকাঠিতে প্রদর্শনী, ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ হাদী সন্ধ্যা ও স্মরণানুষ্ঠান

ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির স্মৃতিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও বিচার দাবিতে তার নিজ জেলা ঝালকাঠিতে প্রদর্শনী, ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ হাদি সন্ধ্যা ও স্মরণানুষ্ঠান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শ্রদ্ধা, প্রতিবাদ ও প্রত্যাশার সম্মিলনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

‎রোববার(১৮ জানুয়ারি) বিকেল থেকে ঝালকাঠি ইনসাফ মঞ্চের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমি প্রঙ্গন ও অডিটোরিয়ামে শহীদ ওসমান হাদীর জীবন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ তুলে ধরে একটি জীবনীভিত্তিক প্রদর্শনীসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।

‎জুলাই শহীদ কামালের সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে শহীদ হাদীর বিভিন্ন সময়ের ছবি, লেখা ও সংগ্রামের দলিল দেখে অনেক দর্শনার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

‎এর আগে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ নামে একটি ভ্যান র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ইনসাফ মঞ্চের সদস্যরা অংশ নেন। বিচারের দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা শহীদ হাদী হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
‎সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় শহীদ শরিফ ওসমান হাদী স্মরণে ‘হাদী সন্ধ্যা’। এতে স্মারক প্রবন্ধ উপস্থাপন, স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

‎বক্তারা বলেন, শহীদ ওসমান হাদী কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি ন্যায়, ইনসাফ, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মানবিকতার প্রতীক। তার হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।
‎বক্তারা আরও বলেন, শহীদ হাদীর রক্ত যেন বৃথা না যায়। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

‎উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শহীদ ওসমান হাদী। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবরস্থানের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

‎স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ ও সততার পক্ষে ছিল তার নির্ভীক অবস্থান। আধিপত্যবাদ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাই ছিল তার রাজনীতি। সেই রাজনীতিকে সাংগঠনিক রূপ দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ইনকিলাব মঞ্চ। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গড়ে তোলেন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার, যেখান থেকে নিয়মিত প্রতিবাদী কর্মসূচি পরিচালিত হতো।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : হাদি হত্যাকারীদের দেশে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে- ঝালকাঠিতে নৌ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন