শান্তি, সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে জামালপুরে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠে সকাল থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত, যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নতুন পোশাকে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে ঈদগাহ মাঠগুলো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেচ্ছাসেবী সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন মাঠে দায়িত্ব পালন করেন।
জেলার বৃহত্তম ঈদ জামায়াতগুলোর মধ্যে ইসলামপুর উপজেলার ডিগ্রীরচর ঈদগাহ ময়দানের জামাত ছিল অন্যতম। চরগোয়ালিনী ও চরপুটিমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠে একসঙ্গে প্রায় অর্ধলক্ষ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় দুই থেকে আড়াইশত বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই ঈদগাহ মাঠটি শুধু ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতিরও এক অনন্য নিদর্শন। প্রতি বছরই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন, পূণ্য ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির আশায়।
ঈদের জামাতে অংশ নিতে কুলকান্দি ইউনিয়ন থেকে আগত ফরহাদ খান বলেন, “শুনেছিলাম এখানে বড় জামাত হয়। আজ এসে নামাজ আদায় করে সত্যিই বিমোহিত হয়েছি। ভবিষ্যতে মাঠের পরিসর বাড়াতে আমরা সহযোগিতা করব।”
ঈদগাহ মাঠ কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক সরকার আলী মেম্বার বলেন, “এই মাঠ আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। এর পরিধি বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
ঈদগাহের ইমাম মাওলানা মুফতি মোঃ আক্তারুজ্জামান আনসারী বলেন, “এই মাঠে এক সময় শেরে তাজ গাউস কুতুব মাওলানা মফিজদ্দিন (রহ.) ইমামতি করেছেন এবং মাঠের সংস্কারে ভূমিকা রেখেছেন। আমরা চাই, এই ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে অটুট থাকুক। এ জন্য সরকারসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
সব মিলিয়ে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এক অপূর্ব বন্ধনে জামালপুরে উদযাপিত হলো মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।
পড়ুন- বায়তুল মোকাররমে ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত
দেখুন- পবিত্র ঈদুল ফিতরের সালাত আদায় শেষে যা বললেন জামায়াত আমির


