১৫/০২/২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৫/০২/২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে তিন সন্তানের জননী (৩২) এক নারীকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার বিকেলে চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এসে ভুক্তভোগী এ অভিযোগ করেন। পরে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী নারী হাতিয়া উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের নলেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা।

হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, হাতিয়া থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ৩২ বছর বয়সী এক নারী অভিযোগ করেছেন যে, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে তাৎক্ষণিক ভর্তি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষার জন্য গাইনি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা চূড়ান্ত মতামত দেবেন বলে তিনি জানান।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালান এবং ভোটের দিন ওই প্রতীকে ভোট দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে কালা এমরান ও অজ্ঞাতনামা আরেকজন দরজায় পাহারায় ছিলেন এবং রহমান নামের এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।

তিনি আরও জানান, ঘটনা ধামাচাপা দিতে শনিবার সকালে রহমান, এমরান, রুবেল ও মতিনসহ ৫০-৬০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ঘরের প্রধান দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা তাকে ঘর থেকে টেনে বের করে শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করে পুনরায় শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং হাসপাতালে যেতে বাধা দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে ঘটনাটি গোপন রাখলেও পরে চিকিৎসা নিতে এসে বিস্তারিত জানান বলে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগী। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

ভুক্তভোগীর চাচাতো বোন শাহিনুর আক্তার শাবনুর জানান, নির্বাচনের শুরু থেকেই তারা শাপলা কলি প্রতীকের পক্ষে কাজ করছিলেন। ভোটের দিন বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা তাদের আটকে রাখে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তারা বাড়ি ফিরেন। রাতের দিকে অভিযুক্তরা মিছিল নিয়ে এসে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধর করে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ভুক্তভোগী স্বামীকে নিয়ে ঘরে যান। পরে রাত ১১টার দিকে অভিযুক্ত রহমানসহ আরও দুজন ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক গোসলখানায় নিয়ে ধর্ষণ করে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য তুহিন ইমরান বলেন, ভোট দেওয়া নিয়ে এমন ঘটনার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে পরাজিত বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, খোঁজ নিয়ে তিনি জেনেছেন ঘটনাটি সঠিক নয়; এটি একটি সাজানো ঘটনা বলে তার দাবি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন :

রূপগঞ্জ উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাচ্চুকে নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন