সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আবারও শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করেছেন। তাদের মূল দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বহাল এবং বৈষম্যের অবসান। আন্দোলনরত শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও নিয়োগের প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে এবং তাদের সঠিকভাবে নিয়োগ না দেওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।
এরপর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ব্যবহার করে। আন্দোলনকারীরা জানান, তারা সাত দিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করে আসছেন, কিন্তু এখনো তাদের কথা শোনা হয়নি। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করেছে এবং বেশ কয়েকজন শিক্ষককে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।
শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, “আমরা মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। আমাদের নিয়োগের জন্য পুলিশের ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন হয়েছে। আমরা কেন এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছি? আমাদের অধিকার কেন আমাদের হাতে দেওয়া হবে না?”
এদিকে, আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলেছেন, তারা এখন কাফন পরে সড়কে অবস্থান করছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের মধ্যে অনেকেই হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে অবস্থান করছেন, আবার কিছু শিক্ষক নারীদের কোলে শিশুও রয়েছে। এই আন্দোলনের ৮ম দিনেও তারা রাজপথে অবস্থান করছেন, এবং দাবি করছেন, যদি আজকের মধ্যে তাদের দাবি না মানা হয়, তবে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।
পুলিশের উপস্থিতি ও জলকামান ব্যবহার সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা দৃঢ়ভাবে তাদের অবস্থানে রয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— “প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসহ তিন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরও আমাদের নিয়োগ কেন বাতিল করা হয়েছে, সেটি অবশ্যই পরিষ্কার করতে হবে।”
এটি গত কয়েকদিনের আন্দোলনের একটি ধারাবাহিকতা, যেখানে আন্দোলনকারীরা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন না। গত ৬ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের তৃতীয় ধাপের ৬ হাজার ৫৩১ জন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষককে নিয়োগ বাতিলের রায় দেন উচ্চ আদালত। রায়ের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে আপিল করলেও, এখনও শুনানি হয়নি। এর পর থেকেই শিক্ষকরা রাজপথে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি জানিয়ে আসছেন।
শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, আদালতের রায়ের কারণে তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। উচ্চ আদালতের রায় বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা করেছেন।
এছাড়া আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং শুধু তাদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছেন। তাদের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব তাদের নিয়োগ পুনর্বহাল করা হোক, যাতে তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চাকরিতে যোগ দিতে পারেন।
সরকারের পক্ষ থেকে কিছু আশ্বাস দেওয়া হলেও শিক্ষকরা এখনও সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাদের মতে, সরকারের আশ্বাস যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তারা বলেন, “আমরা তো ছাত্রদের পাশে ছিলাম, এখন আমাদের পাশে ছাত্র প্রতিনিধি নেই কেন?”
শিক্ষকদের দাবি, তাদের যোগদান নিশ্চিত করা হোক, এবং সুপারিশপত্রের পরও কেন তারা নিয়োগ পাচ্ছেন না, তার সঠিক কারণ জানতে তারা অপেক্ষা করছেন।
এদিকে, শাহবাগে আন্দোলন চলাকালে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং তারা অবিচল থাকবেন যতক্ষণ না তাদের দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নেওয়া হয়।
তিন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরও কেন তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনকারীরা বলেন, এটি তাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক এবং তারা প্রত্যাশা করছেন, সরকার তাদের দাবি মেনে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
আন্দোলনকারীরা এখন সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি আজকের মধ্যে তাদের দাবি না মানা হয়, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যাবে।
পড়ুন: শাহবাগে শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
দেখুন: শাহবাগে ফের ম্যাটস শিক্ষার্থীদের অবস্থান
ইম/


