কিংবদন্তি বাউল শিল্পী শাহ আবদুল করিমের পরিবার তার সৃষ্ট অমর সংগীতকর্ম অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করার অভিযোগে গ্রামীণফোন লিমিটেডের বিরুদ্ধে একটি আইনি নোটিশ জারি করেছে। শাহ আবদুল করিমের পুত্র শাহ নূরজালালের পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ (সুপ্রিম কাউন্সেল এলপি) ২৭ আগস্ট গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমানের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে এ নোটিশ প্রদান করেন।
নোটিশে অভিযোগ আনা হয়েছে, গ্রামীণফোন অনুমতি, লাইসেন্স বা স্বীকৃতি ছাড়া শাহ আবদুল করিমের কপিরাইটকৃত গান টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেছে—এর মধ্যে রয়েছে ২০১৬ সালের একটি টিভিসি (YouTube-এ আপলোডকৃত) এবং ২০২২ সালের একটি বিজ্ঞাপন (Facebook ও YouTube-এ প্রচারিত)।
অভিযোগসমূহ : ১. কপিরাইটকৃত সংগীতকর্ম অনুমতি ছাড়া পুনরুৎপাদন ও সম্প্রচার। ২. শাহ আবদুল করিমকে কৃতিত্ব না দিয়ে তার নৈতিক অধিকারের লঙ্ঘন। ৩. জিপির 4G প্রচারণায় ব্যাপক বাণিজ্যিক লাভসহ সংগীতকর্মের অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ব্যবহার। ৪. প্রকৃত কপিরাইটধারীর ক্ষতির বিনিময়ে অন্যায়ভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ।
নোটিশে উত্থাপিত দাবি : ১. শাহ আবদুল করিমের গান অবিলম্বে অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ২. YouTube, Facebook, টেলিভিশনসহ সব প্ল্যাটফর্ম থেকে লঙ্ঘনকারী কন্টেন্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে হবে। ৩. শাহ আবদুল করিমকে লেখক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ৪. ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ কোটি টাকা (প্রতিটি গান অনুযায়ী ১০ কোটি টাকা) প্রদান করতে হবে। ৫. ভবিষ্যতে এমন লঙ্ঘন আর না করার বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
নোটিশে জানানো হয়, যদি গ্রামীণফোন ৭ দিনের মধ্যে উল্লিখিত দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে শাহ আবদুল করিমের পরিবার কপিরাইট আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করবে। এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ দাবি, অবৈধ কন্টেন্ট ধ্বংস, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রামীণফোনের পরিচালক ও কর্মকর্তাদের ফৌজদারি দায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ বলেন, “শাহ আবদুল করিমের গান কেবল সংগীত নয়— এগুলো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অংশ। অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার কেবল অবৈধ নয়, বরং চরম অসম্মানজনক। আমরা তার উত্তরাধিকার রক্ষায় আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থাই গ্রহণ করব।”
পড়ুন : আমাদের একজন ‘নায়করাজ’ ছিলেন


