শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হলে সবার আগে শিক্ষকদের গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি মনে করেন, কেবল মন্ত্রী পরিবর্তন করলেই শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব নয়, বরং যারা মানুষ গড়ার কারিগর, সেই শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়ন প্রয়োজন।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার কেন্দ্র সচিবদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আজ সোমবার দুপুরে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোসাম্মাৎ আসমা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের উন্নয়নের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অন্য দশটি মন্ত্রণালয়ের চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা। আমি এখানে শিক্ষকদের জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাই না, বরং তাদের সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়তে চাই। তিনি বিরোধী দলসহ দেশের প্রতিটি সংসদ সদস্যকে প্রতিদিন শিক্ষা নিয়ে কথা বলার এবং সংসদে শিক্ষা বিষয়ক নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, অতীতে অনেকেই নকল প্রবণতাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। ২০০১ সালের পর সরকার কঠোরভাবে নকল নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। তবে করোনার পরবর্তী সময়ে নকলের ধরন পাল্টে ‘ডিজিটাল জালিয়াতি’ শুরু হয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন। এটি প্রতিরোধে শিক্ষক ও প্রশাসনকে আরও সজাগ হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায়পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনতে ১৯৮০ সালের শিক্ষা আইন সংশোধনের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এখন থেকে পরীক্ষকদের মূল্যায়িত খাতা থেকে ‘র্যান্ডম স্যাম্পলিং’ বা নমুনা সংগ্রহ করে পুনরায় যাচাই করা হবে। যাতে শিক্ষকরা সঠিকভাবে নম্বর দিচ্ছেন কি না তা নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি নতুন ও দক্ষ পরীক্ষক তৈরিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জন্ম নিবন্ধনের সাথে সাথে একটি স্থায়ী আইডি নম্বর দেওয়া হবে। এই একটি আইডি দিয়েই শিক্ষা, পুলিশি ভেরিফিকেশন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং মৃত্যু পর্যন্ত সব সেবা নিশ্চিত হবে, যা শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব ঘটাবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা দিয়ে ছদকা জারিয়া অর্জন সম্ভব। কিন্তু শিক্ষকরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না । অধিকাংশ শিক্ষক নিজের স্কুলে নিজের সন্তানদের পড়ান না। তিনি শিক্ষকদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখার এবং শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সহস্রাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোসাম্মাৎ আসমা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর-৫ আসনের এমপি গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের এমপি মোক্তার আলী, ঝিনাইদহ-৩ আসনের এমপি মতিউর রহমান, নড়াইল-২ আসনের এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু, বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি আব্দুল আলিম, সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি জিএম নজরুল ইসলাম।
আরো বক্তব্য রাখেন কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিয়া মোঃ নুরুল হক।
পড়ুন : যশোরে সেই চিকিৎসক রাফসান জানির বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার মানহানি মামলা


