বিজ্ঞাপন

শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি নয়, আদর্শ থাকতে হবে শিক্ষকদের: সুসং কলেজে ডেপুটি স্পিকার

শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ওপর কঠোর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সুসং সরকারি কলেজের শিক্ষকমণ্ডলীর সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এরআগে, ডেপুটি স্পিকার কলেজ ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছালে কলেজের শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাকে স্বাগত জানান। আনুষ্ঠানিক সভা শুরুর আগে তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় উপস্থিত সবাই তাকে এ মহৎ কাজে সহযোগিতা করেন।

কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগত, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী (ড্রপআউট) এবং মাদকাসক্তদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আইডি কার্ড ও কলেজ ড্রেস পরিধান বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, “তিন হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে যদি দুই হাজারও নিয়মিত আসে, আর আইডি কার্ড বা ড্রেস না থাকে, তবে কে ছাত্র আর কে বহিরাগত তা চেনা কঠিন। তাই গেটে আইডি কার্ড চেক করে ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে।” কোনো অবস্থাতেই বহিরাগত কেউ যেন ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন (ওসি) ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

নিজের শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শিক্ষকদের সমাজের প্রতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আলাদা দায়বদ্ধতা রয়েছে। একজন শিক্ষককে সব সময় আদর্শবান হতে হয়। শিক্ষকরা ক্লাসে নিয়মিত না হলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিয়মিত হবে?” তিনি শিক্ষকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার এবং শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক পথে পরিচালিত করার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি শিক্ষকদের রাজনৈতিক বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, “আমি যখন একটি বড় রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) আইন বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হই, তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমি শিক্ষকতা পেশা থেকে পদত্যাগ করেছিলাম। কারণ, শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির কোনো সুযোগ নেই।” তিনি কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে দেন, সরকারি কলেজে চাকরি করে কোনো শিক্ষক রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না।

১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজের ঐতিহ্য ও সুনামের কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “সুসং সরকারি কলেজ আমাদের এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এ কলেজের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়েও তিনি কথা বলেন এবং জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কলেজের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলোচনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কলেজের সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মতবিনিময় এ সভায় নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান, ইউএনও আফরোজা আফসানা, সুসং সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশারফ হোসেন, থানার ওসি কামরুল হাসানসহ শিক্ষকমণ্ডলী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষ পর্যায়ে উপস্থিত শিক্ষকদের সাথে তিনি কলেজের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।

পড়ুন:আজ শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি

দেখুন:কেন পাকিস্তানে গেলেন বিসিবি সভাপতি? 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন