শিক্ষার্থীদের কেবল একটি ভালো চাকরি বা আরামদায়ক জীবনের জন্য পড়াশোনা করলে চলবে না, বরং তাদের নৈতিকতাসম্পন্ন, দায়িত্বশীল এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরিতে অবস্থিত সেন্ট জেভিয়ার্স বিদ্যালয় ও ডন বস্কো কলেজে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যালয় ও কলেজের কর্মকর্তা, শিক্ষকমণ্ডলী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “তোমরা যারা এ প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছ, তারা অত্যন্ত ভাগ্যবান। হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখানে ভর্তির স্বপ্ন দেখে। এ প্রতিষ্ঠানটি শুধু পুঁথিগত বিদ্যা বা চাকরি পাওয়ার শিক্ষা দেয় না, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক উন্নতি এবং বাংলাদেশের একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা প্রদান করে।” এ সময় তিনি এমন একটি উচ্চমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য এর প্রতিষ্ঠাতা ডন বস্কোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, “জীবনের এই শ্রেষ্ঠ সময়টাকে শুধু মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে নষ্ট করা যাবে না। তোমাদের জন্য এখানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ লাইব্রেরি রয়েছে। মোবাইলের পেছনে সময় না দিয়ে লাইব্রেরিতে গিয়ে নিজেদের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করতে হবে।”
শিক্ষকদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “শিক্ষকরা এখানে শুধু সিলেবাস শেষ করেন না, তারা শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।” এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের ফাদার পাওয়েলকে তাঁর ডেডিকেশনের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুম এবং ল্যাবরেটরিগুলো সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের।
একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে কায়সার কামাল বলেন, “নির্বাচনের আগে এ প্রতিষ্ঠান থেকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু একজন রাজনৈতিক প্রার্থী হিসেবে আমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করতে চাইনি বলে তখন আসিনি। আজ আমি আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি।” তিনি জানান, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেলে তাদের অনেক দাবি-দাওয়া থাকে, কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগেই সব আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখে বলে তাদের কোনো অপ্রীতিকর দাবি নেই, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
দীর্ঘ বক্তব্যের একপর্যায়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে হাস্যরসে মেতে ওঠেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি ইংরেজিতে বক্তব্য শুরু করলেও পরে বাংলায় ফিরে আসেন এবং দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত কবিতার লাইন স্মরণ করে বলেন, “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।” তার এেই রসবোধ উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে হাসির খোরাক জোগায়।
এ অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. নুরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাফিকুজ্জামান, দুর্গাপুরের ইউএনও আফসানা আফরোজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান, থানার ওসি কামরুল হাসান, ডন বস্কো কলেজের পরিচালক ফাদার পাওয়েল কোচিওলেক ও ভাইস প্রিন্সিপাল রুমন রাংসা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান আনছারী, একাডেমিক সুপারভাইজার নাসির উদ্দিনসহ সেন্ট জেভিয়ার্স বিদ্যালয় ও ডন বস্কো কলেজের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : রোগীর মাথায় হাত রাখলে অর্ধেক রোগ ভালো হয়ে যায়: ডেপুটি স্পিকার


