কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাসে হাত-পা বেঁধে ছিনতাই ও ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে সেন্টমার্টিন পরিবহনের কয়েকজন কর্মী। এ ঘটনায় আটক দুজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত অজামিনযোগ্য ধারায় দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বাকি তিনজন এখনো পলাতক।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুমিল্লার বরুড়ার হোসেন আলী (২৫) ও নারায়ণগঞ্জের আলী হোসেন (২৩)। তাঁদের সহযোগী পিচ্চি রাসেল, নূর আলম, সৌরভ ও বাসচালক চাঁন মিয়া পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, কোটবাড়ী বিশ্বরোড থেকে চট্টগ্রামগামী বাসে ওঠেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। যাত্রাপথে আসামিরা ছুরি ঠেকিয়ে গয়নাগাটি ও টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে পদুয়ার বাজারে একটি হোটেলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে দুজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় রাতেই আটক দুজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, “গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়েছে। পলাতক তিনজনকে গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”
সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া খানম জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক দুজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিপূরণ আদায়ে বাসমালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবিঃ দন্ডপ্রাপ্ত দু আসামী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম বলেন, “শিক্ষার্থীদের চাপ ও উত্তেজনা সামলাতে প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে একটি সমাধান এসেছে।”
উপাচার্য অধ্যাপক ড. হায়দার আলী বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা চাই দ্রুত চার্জশিট দিয়ে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাওনা টাকা চাওয়ায় অটোরিকশা চালককে এসিডে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ
দেখুন: ই/য়ে/মে/নে মা/র্কি/ন হামলার পর হু/থি/দে/র পাল্টা আক্রমণ
ইম/


