বিজ্ঞাপন

শিক্ষা খাতে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা, থাকছে যেসব সুযোগ

শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহারের আলোকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা জানান।

এর মধ্যে রয়েছে-

১. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন: ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ প্রকল্পের আওতায় এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যায়ের সকল শিক্ষককে ট্যাব সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি নিশ্চিত করা হবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম।

২. ভাষা ও দক্ষতা: পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং সবার জন্য কারিগরি শিক্ষার সুযোগ প্রসারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

৩. পরিবেশ ও সচেতনতা: শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা (কেডস) বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রাথমিক শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষার্থী ঋণ’ সুবিধা চালু এবং হাফেজে কুরআনদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের সন্তান এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ‘জুলাই শিক্ষার্থী যোদ্ধাদের’ প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত তাদের অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া মেধা বিকাশে উপজেলা পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্ক ক্লাব গঠন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থবির হয়ে পড়া শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে গতিশীল করার নির্দেশ দিয়েছেন ড. এহছানুল হক মিলন। প্রয়োজনে একাধিক শিফটে প্রশিক্ষণ চালিয়ে জট নিরসনের কথা বলেন তিনি। এমনকি জাতীয়করণকৃত ৫০োর্ধ্ব শিক্ষকদেরও এই আধুনিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিশেষে মন্ত্রী বলেন, এই ১৮০ দিনের কর্মসূচি মূলত দেশের মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি ধাপ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লক্ষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।

এসময় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন