২৯/০১/২০২৬, ০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
২৯/০১/২০২৬, ০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শত শত তদবির, আগে টাকা দিলেই কাজ হতো : শিক্ষা উপদেষ্টা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদবির ও অনিয়মের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। দায়িত্ব পালনকালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন শত শত তদবির আসতো। আগে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলেই কাজ হয়ে যেত, মন্ত্রণালয়ে আসারও প্রয়োজন হতো না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবাই সুযোগ পাওয়ার আশায় সরাসরি মন্ত্রণালয়ে হাজির হতেন বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ কথা বলেন। রাজধানীর কারওয়ানবাজারে এই অনুষ্ঠান হয়।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আগের সরকারের ফেলে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আছে। এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হতে পারে। মূল্যস্ফীতি যতটা কমার কথা, ততটা কমেনি।

এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সমালোচনা করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গত সরকারের আমলে আপাতদৃষ্টিতে অর্থনীতি ভালো ছিল মনে হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক খাতের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছিল, তা বোঝা যাচ্ছিল। বিপুল অর্থ বিদেশে চলে গেছে। তার মতে, আর্থিক খাতের নিয়মশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল, যা বাজেটের শৃঙ্খলাকে নষ্ট করে।

২০২৪ সালে অভ্যুত্থান না হলেও পরে অভ্যুত্থান হতো—তা বোঝা যাচ্ছিল। যারা এসব (দুর্নীতি, অন্যায়) করেছেন, তারা তা বুঝতে পেরে অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে রেখে গেছেন।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। উচ্চ সুদের কারণে নতুন বিনিয়োগে অনীহা বাড়ছে এবং বিদ্যমান উদ্যোক্তারা কার্যক্রম সম্প্রসারণে পিছিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন। এই অবস্থায় দীর্ঘদিন উচ্চ সুদের হার বহাল থাকলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সুদ বাড়িয়ে রেখে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমানোর যে ধারণা ছিল, তা বর্তমান বাস্তবতায় আর অতটা কার্যকর নয়। মূল্যস্ফীতি যতটা কমার কথা ছিল, ততটা কমেনি; তবে এর প্রবণতা নিম্নমুখী। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামাতেই হবে বা নীতি সুদের হার ১০ শতাংশে ধরে রাখতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এসব সূচকের ভিত্তিতে চলতি বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যাংক খাত নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিগত সরকারের আমলে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। ব্যাপক অর্থপাচার ও অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাংক খাত ছিল অত্যন্ত নাজুক অবস্থায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকার নোট ছাপাতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নির্বাচন নিয়ে মতামত দেওয়ার অধিকার রাখে না ভারত: তথ্য উপদেষ্টা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন