০২/০৩/২০২৬, ২:২৭ পূর্বাহ্ণ
22.4 C
Dhaka
০২/০৩/২০২৬, ২:২৭ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

শিশু তাছিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

দুই হাত-পা বেঁধে রেখেই লালন পালন করতে হয় শিশু তাছিনকে। মাত্র আট বছর বয়সেই শরীরে কঠিন রোগ বহন করে ধীরে ধীরে মৃত্যুপথযাত্রী হতে যাচ্ছে। মানসিক ভারসাম্যহীনতায় আক্রান্ত শিশু তাছিন প্রায়ই নিজের শরীর নিজেই আঘাত করে তার কোমল দেহ ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। অসহায় বাবা-মা বাধ্য হয়ে তার দুই হাত-পা বেঁধে রাখেন, যাতে সে নিজে নিজে তার শরীরে আর কষ্ট না পায়।

তাছিনের বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আচরনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পারিবারিক দরিদ্রতার কারনে এখন আর চিকিৎসা চালাতে পারছে না তাছিনের পরিবার। যে কারনে রোগটি চরম আকার ধারণ করেছে। দিনরাত বেঁধেই রাখতে হয় তাছিনকে।

তাছিনের বাবা নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের দশাল এলাকার রিকশাচালক সুজন মিয়া ও মা গার্মেন্টস কর্মী তাসলিমা বেগম। একমাত্র সন্তান আবু তাছিনে এই অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। টাকার অভাবে একমাত্র সন্তানের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলের বেঁচে থাকার আশা ছেড়েই দিয়েছেন তারা।

ডাক্তার বলেছেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগটিও তার শরীরে বাসা বেঁধেছে। তবে নিয়মিত উন্নত চিকিৎসা ও নার্সিং করাতে পারলে তাছিন ভালো হয়ে যাবে।

ইতোমধ্যে তাছিনকে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে, তা নজরে আসে কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয় সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের। দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে খোঁজ নিয়েছেন তাছিনের।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকালে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি শিশুটির সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীযয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, একটি শিশু কখনোই শৃঙ্খলিত জীবনে বেঁচে থাকতে পারে না। তাছিন যেন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে তার সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।

এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক সংগঠনগুলো ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা পকাশ করেছেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামালের এই সহায়তা তাছিনের জীবনে নতুন আলো ফিরে আসুক, অন্যান্য শিশুর মতো তাছিনও মায়ের কোলে ফিরে আসুক এমনটাই আশা করছেন সকলে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের মাঝে ছাগল বিতরণ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন