পাল্টা শুল্ক নিয়ে শেষ মুহুর্তে কূটনৈতিক তৎপরতায় বাংলাদেশ। প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা উপদষ্টা এ নিয়ে কাজ করছে। এর আগে, দায়িত্বে ছিলেন, সরকারের বিশেষ দূত-লুৎফে সিদ্দিকী। পাল্টা শুল্ক চুক্তির একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। যা নিয়ে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্বিপক্ষীয় দর কষাকষি করে আর যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে গুরুত্ব দিত হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিয়ে। গত ৩ এপ্রিল হঠাৎ ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক ৩৭ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়, এতে মোট শুল্ক দাড়ায় ৫২ শতাংশ। অবশ্য, কাযকরের দিন, তা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করে মার্কিন প্রশাসন।
৯ জুলাই শেষ হচ্ছে ৯০ দিন। তবে, কোন পথে বিশ্ব বাণিজ্য। যদিও, শোনা যাচ্ছে, আরও এক বছর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়তে পারে। তবে, যদি না বাড়ে। কতটা চ্যালেঞ্জে পড়বে দেশের রপ্তানি খাত, সেই বিচার বিশ্লেষণ চলছে।
আজিজ গ্রুপ, পোশাক খাত যাদের হাত ধরে যাত্রা, তার একটি। মোট রপ্তানির ৬৫ শতাংশ যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানালেন, সরকার বাজেটসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ইতিবাচক দেখবে, তবে, জোড়ালো করতে হবে কূটনৈতিক তৎপরতা।
অবশ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বে ছিলেন, সরকারের বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। কিন্তু তাকে সরিয়ে, এখন দায়িত্বে প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তার জোড়ালে চেষ্টায়, করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক, একটি চুক্তির খসড়াও চূড়ান্ত।
পাল্টা শুল্ক কমাতে, বাংলাদেশ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে। উড়োজাহাজ আর গম আমদানির কথা চিন্তা করছে সরকার। আর চলমান আলোচনায় শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে শুল্কের নতুন হার।
তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার, বিপরীতে আমদানি সোয়া দুই বিলিয়ন। তবে, ৯ জুলাই কি চূড়ান্ত হবে, তা জানতে হয়তো অপেক্ষা করতে হবে বাংলাদেশকেও।
এনএ/


