শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাইকুড়া বাজারে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজন গুরুতর অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ে চিকিৎসা গ্রহন করে পুলিশে অভিযোগ দিলেও কোন অগ্রগতি নাই। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রায় এক মাস হলেও এখনও মামলা নেয়নি পুলিশ। এদিকে পুলিশ বলছে দ্রুত সময়ের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আহতরা হলেন- পাইকুড়া এলাকার আব্দুর রশিদের স্ত্রী জরিনা বেগম, ছেলে রুবেল মিয়া, একই এলাকার শাহজামালের স্ত্রী জয়নব বেগম, আব্দুল কাইয়ুমের স্ত্রী নুরজাহান, আমির উদ্দিনের স্ত্রী রহিমা বেগম।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পাইকুড়া এলাকার প্রতিবেশী রুস্তম আলী দীর্ঘদিন ধরে তাদের স্বত্বদলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ চলাকালে সহিংসতা এড়াতে তারা সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ ধারায় একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তদের সঙ্গে শত্রুতা আরও বেড়ে যায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর করে। পাশাপাশি ঘরের সামনে রাখা প্রায় ১০ হাজার ইট লুট করে নিয়ে যায় এবং প্রায় ৫০ শতাংশ ফসলি জমির ভুট্টা গাছ কেটে ফেলে। এতে পরিবারের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুল কাইয়ুম জানান, এ ঘটনায় ঝিনাইগাতী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছি। প্রায় একমাস হয়ে গেলেও এখনো মামলা রেকর্ড করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা প্রথমে মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে সময় নিলেও পরবর্তীতে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছে। রুস্তম আলী একজন চিহ্নিত ভূমি সন্ত্রাসী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পাইকুড়া বাজারে অবস্থিত কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের রেকর্ডিয় ও সরকারি খাসজমি জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন। যেকোনো সময় জমি বেদখলের পাশাপাশি জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে তারা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
তবে, মুঠোফোনে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. রুস্তম আলীর প্রতিবেদকের সাথে কথা শেষ না করেই ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি, খোঁজখবর নিয়ে তারপর জানাতে পারবো। যদি অভিযোগ দিয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


