২৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় এক উইকেট হারিয়ে দলীয় শতক স্পর্শ করেছিল বাংলাদেশ। এমন শুরুর পর হঠাৎ ছন্দ পতন। এক উইকেটে ১০০ রান থেকে ১০৫ এ যেতেই সাজঘরে ফেরেন আরো ছয় ব্যাটার। অর্থাৎ, ৫ রান যোগ করতে গিয়ে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর আর ম্যাচে ফেরা হয়নি টাইগারদের। ৭৭ রানের জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা।
১ উইকেটের বিনিময়ে ১০০ রান। এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ব্যাটিং লাইন আপ। ৫ রান তুলতে নেই ৭ উইকেট। ফলাফল, আরও একটি বাজে হার।
ম্যাচে জয় থাকবে, হারও থাকবে। কিন্তু একটি হারকে কতটা বাজে, কতটা দৃষ্টিকটু করা যায়, তার প্রকৃত উদাহরণই যেন কলম্বোর প্রেমাদাসায় দেখালো বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল।
বুধবার (২ জুলাই) সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭৭ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৪৫ রান তাড়া করতে নেমে ৩৫.৫ ওভারে সব কটি উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রানে থামে মিরাজের দল।

তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তের দ্বিতীয় উইকেট জুটির পর কে ভেবেছিল ম্যাচটি আসলে হারতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, তাও খুব বাজেভাবে। ওপেনিং জুটিতে অভিষিক্ত পারভেজ ইমন খুব বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে না পারলেও ক্রিজ আঁকড়ে রেখেছিলেন আরেক ওপেনার তানজিদ তামিম। ১৬ বলে ১৩ রান করে ইমন বিদায় নিলেও ফিফটি তুলে নেন তানজিদ তামিম। দ্বিতীয় উইকেটে শান্তর সঙ্গে গড়েন ৭১ রানের দারুণ জুটি। দুজনের জুটিতে মনে হচ্ছিল সহজ জয়ের পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। দলও পৌঁছে যায় শতরানে। হাতে ৮ উইকেট, জয়ের জন্য শেষ ৩৩ ওভারে প্রয়োজন ১৪৫ রান।
শেষদিকে তানভীর ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গ নিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে হারের ব্যবধান কমান জাকের আলী অনিক। ৩৬তম ওভারে হাসারাঙ্গার বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ৬৪ বলে ৪ ছক্কা ও ৪ চারের মারে ৫১ রান করেন তিনি। লঙ্কানদের পক্ষে মাত্র ১০ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নেন হাসারাঙ্গা, ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন কামিন্দু।
এর আগে তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান সাকিবের বোলিং নৈপুণ্যে ৪৯.২ ওভারে ২৪৪ রানে থামে শ্রীলঙ্কা। ৪৭ রান খরচায় তাসকিন ৪ আর ৪৫ রান খরচায় সাকিব ৩টি উইকেট নিয়েছেন। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন শান্ত ও তানভীর ইসলাম। লঙ্কানদের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন চারিথ আসালাঙ্কা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ ৫ জুলাই একই মাঠে।


