চলতি বছরের ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সরকারি তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দেশের ১৪টি উপজেলায় ৪০ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় এসেছে। তবে সরকারের লক্ষ্য আরও বড়; মোট চার কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় এনে অভাবী মানুষের সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। কিন্তু সংকট আর স্বস্তির এই দোলাচলেই কাটছে ফ্যামিলি কার্ডের প্রথম মাস। আবেদনকারীরা যেমন দ্রুত টাকা পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, তেমনি বঞ্চিতরা চাইছেন নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ।
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে প্রথম ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এ বস্তির বাসিন্দা আফরোজা বেগমের চোখেমুখে কিছুটা প্রশান্তির ঝিলিক। মেয়ে ইতি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ টাকা কল্পনার সংসারে এক আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কিছুটা হলেও সহযোগিতা করছে এ কার্ড।
ফ্যামিলি কার্ড চালুর এক মাস পূর্ণ হলো আজ। কড়াইল বস্তির অনেকের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কেউ টাকা পেয়ে বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউবা মেসেজর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আবার কেউ কেউ আছেন, যারা সঠিক সময়ে আবেদন করতে না পেরে এখন আফসোস করছেন।
বস্তি এলাকার একটি ছোট দোকানে বসে শারমিন সুলতানা বারবার মোবাইলে মেসেজ চেক করছিলেন। গত ১০ মার্চ প্রথম কিস্তির টাকা পেয়েছিলেন তিনি। আজ এক মাস পূর্ণ হওয়ায় দ্বিতীয় কিস্তির অপেক্ষায় তার এই প্রহর গোনা। শারমিন বলেন, ‘বাজারে যে জিনিসের দাম, তাতে দুই হাজার টাকা দিয়াও এহন অনেক কিছু হয় না। তাও এই টাকাটা হাতে পাইলে সংসারের চালে-ডালে একটু টান কম পড়ে। গতবার ১০ তারিখ আইছিল, আজকেও ১০ তারিখ, দেহি কখন আসে।’
তবে সবার ভাগ্য শারমিনের মতো সুপ্রসন্ন নয়। কড়াইল বস্তিরই তফুরা বেগম সব কাগজপত্র জমা দিয়েও এখনও কোনো মেসেজ পাননি। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘নাম দিছি, বিকাশের কাগজ দিছি, সব ঠিকঠাক জমা দিছি। আমার সঙ্গে আরও দুইজন জমা দিছিল, তারা পাইছে কিন্তু আমার মোবাইল এখনও খালি। ডরে আছি আদৌ পামু কি না।’
তফুরার মতো এমন অভিযোগ আরও অনেকের। আবেদন করেও টাকা না পাওয়ার তালিকায় থাকা বাসিন্দারা চান দ্রুত স্বচ্ছতার মাধ্যমে তাদের পাওনা নিশ্চিত করা হোক।
অন্যদিকে, যারা কাজের চাপে বা তথ্যের অভাবে আবেদন করতে পারেননি, তারা এখন হন্যে হয়ে খুঁজছেন নতুন করে আবেদনের সুযোগ। রিকশাচালক রহিম মিঞা বলেন, ‘আবেদন যখন শুরু হইছে তখন গ্রামে আছিলাম। আইসা দেখি সব শেষ। এহন কি আর আবেদন করার কোনো সুযোগ নাই? আমাগো মতো মানুষের জন্য যদি সরকার আরেকবার সুযোগ দিত, খুব উপকার হইত।’
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

