সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলের বিষয়ে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের অডিটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।
নতুন বেতন কাঠামো প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বেতন কমিশনের ২১ সদস্য বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছেন। বিভিন্ন পক্ষ লিখিতভাবে ও সরাসরি মতামত দিয়েছে। সব দিক বিবেচনা করেই সুপারিশ তৈরি হচ্ছে। শিগগির তারা সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন।
অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করতে পারবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশনের কাজ শেষ হলে তখনই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। বিচার বিভাগ ও প্রতিরক্ষা খাতের জন্য আলাদা বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সরকার এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এলপি গ্যাসসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি– দুই দিকই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন, কয়লার ব্যবহার কৌশল এবং কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা।
ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়তে পারে কিনা– এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা জ্বালানি খাতে তুলনামূলকভাবে স্বতন্ত্র। সেখানে পরিস্থিতির প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
টিআইবির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উপদেষ্টাদের তুলনায় আমলাদের প্রভাব বেশি– এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু পরিবর্তন যে হয়েছে, তা কি আপনারা দেখছেন না? আমাদের দেশে এমন পরিস্থিতি অনেক দিন ধরেই চলছে, কখনও বেশি বলা হয়, কখনও কম। বর্তমান সরকারের সময়ে সব প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে– এমন দাবি করা যাবে না। কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। দক্ষ জনবল, সমন্বয়, আন্তরিকতা এবং সহযোগিতা ছাড়া শুধু পরিকল্পনা করলেই সব বাস্তবায়ন করা যায় না।
একই সঙ্গে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, যেসব অডিট প্রতিষ্ঠান এসব ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেয়ারহোল্ডাররা কোন প্রেক্ষাপটে শেয়ার কিনেছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতি শুধু সুদহার বা চাহিদা-জোগানের বিষয় নয়। বাজার ব্যবস্থাপনা, মানুষের আচরণ ও সুশাসনের সঙ্গে এটি সরাসরি যুক্ত। ইন্সপেক্টর বা ম্যাজিস্ট্রেট বসিয়ে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, এটি কোনো দেশেই কার্যকর পদ্ধতি নয়।
পড়ুন: ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ মীমাংসার সুযোগ ছিল, কিন্তু দমননীতি নেন শেখ হাসিনা
দেখুন: এবারের নির্বাচন ঋণখেলাপিদের সংসদের বাইরে পাঠানোর নির্বাচন: হাসনাত আবদুল্লাহ
ইম/


