28.8 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ১৮:৩৯ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সনদ বাস্তবায়নের পরে ডেপুটি স্পিকার পদ চায় জামায়াত

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দিতে চায় বিএনপি। তবে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন ছাড়া তারা পদটি নিতে চায় না। 

বিজ্ঞাপন

জামায়াত নেতারা বলছেন, গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের নিশ্চয়তা পেলে তারা ডেপুটি স্পিকার পদ নিতে চান। গত শনিবার ইফতার মাহফিলের পর চা চক্রে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই মনোভাব জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। 

বৈঠক সূত্র সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে। গত শনিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের ইফতারে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ইফতারের পর সরকারি এবং বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা চা চক্রে মিলিত হন। সেখানে সরকারি দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়, জুলাই সনদ অনুযায়ী বিরোধী দল থেকে সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে আগ্রহী বিএনপি। আগামী ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের পরই ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হবে। বিরোধী দল জামায়াত দলের যে এমপিকে মনোনীত করবে, তাকেই ডেপুটি স্পিকার হিসেবে সমর্থন জানাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি। 

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, জবাবে সরকারপ্রধানকে বলা হয়, শুধু ডেপুটি স্পিকার নয়, গণভোটের ফলফল অনুযায়ী জুলাই সনদকে একটি প্যাকেজ হিসেবে বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। 

ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ড. মঈন খান ও মির্জা আব্বাস, জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদটি প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামকে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদে ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতকে নাম ঠিক করতে বলা হয়েছে। 

তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে যেটি আমরা সমঝোতায় এসেছি, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে তার বাস্তবায়ন এখন থেকেই শুরু করতে চাই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দলের পক্ষ থেকে আমরা প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিকভাবে ও সাক্ষাতে প্রস্তাব করেছি, তারা যেন ডেপুটি স্পিকার ঠিক করে। সেটি জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচনের দিন একইসঙ্গে নির্বাচিত হতে পারে।

বিরোধী দল থেকে কে ডেপুটি স্পিকার হতে যাচ্ছেন–প্রশ্নে হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নকেই গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। 
জামায়াতের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়া ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়া ঠিক হবে কিনা, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ, পিআর পদ্ধতিতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ, সনদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য কমিশন গঠিত না হলে, শুধু ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়া হবে ঠিক হবে না বলে অভিমত রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার পদ নিলে, সরকারি দল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দায় থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে। আগামী দিনে বিরোধী জোটের রাজনীতি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন কেন্দ্রিক হবে। এই বাস্তবতায় পদের চেয়ে রাজনীতি জরুরি।
ডেপুটি স্পিকার মন্ত্রী পদমর্যাদার পদ। স্পিকার যে প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হন, ডেপুটি স্পিকার একই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হন। জুলাই সনদে বলা হয়েছে, সংবিধানে এমন বিধান যুক্ত করা হবে, যাতে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। 

বিএনপি সনদের এই প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া একমত হয়েছে। তবে দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, সংসদের নিম্ন এবং উচ্চকক্ষে ডেপুটি স্পিকারের পদ হবে দুটি। একটি নেওয়া হবে বিরোধী দল থেকে।

এদিকে জুলাই সনদের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিটের শুনানি হয়েছে গতকাল। আজ আদেশ হতে পারে। শুনানিতে জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেন। জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, আদালতের আদেশ দেখে ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে, গত ১৩ নভেম্বর জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট হয়। এর পক্ষে ৬৮ শতাংশ হ্যাঁ ভোট পড়েছে। আদেশে বলা হয়, হ্যাঁ জয়ী হলে জুলাই সনদের ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবের ৩৮টি বাস্তবায়ন করতে হবে। বাকি ১০টি বাস্তবায়ন করতে হবে না। দলগুলো নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী, এসব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে পারবে। 

আদেশে বলা হয়েছে, হ্যাঁ জয়ী হলে নবনির্বাচিত এমপিদের নিয়ে ১৮০ কার্যদিবস মেয়াদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। এই পরিষদ অনুযায়ী, সনদে বর্ণিত উপায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার; নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য কমিশন এবং চলতি সংসদেই নির্বাচনের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠনের বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবে পরিষদ। যে ৩০ সংস্কার প্রস্তাবে সব দলের ঐকমত্য হয়েছিল সংলাপে, সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে পরিষদকে। 
সংবিধানে নেই কারণ দেখিয়ে বিএনপি জোটের এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। জামায়াত-এনসিপির জোটের ৭৭ এমপি শপথ নিয়েছেন। শপথ নিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র এমপি। বিএনপি বলছে, সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলে তবেই পরিষদের শপথ নেবে। 

পড়ুনঃবিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন