দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ব্যাপক সমালোচনার মুখে নন-এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার চলমান কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিদায়ী সময়ে ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির চলমান প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ৮ কর্মদিবসে ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের যে ‘অস্বাভাবিক গতি’ দেখা গেছে, তা নিয়ে জনমনে ও মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরেই প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও কতিপয় শিক্ষক নেতার সমন্বয়ে একটি ‘ম্যানেজড’ তালিকা তৈরি করা হয়, যেখানে বড় অংকের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
এ নিয়ে শিক্ষক সমাজে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান আন্দোলনের সুযোগে শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পছন্দের প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করতে অগ্রিম হিসেবে মোটা অংকের নগদ অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানোর অভিযোগ রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনে, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তালিকা আদান-প্রদানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
তবে এসব দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমপিও যাচাই-বাছাই কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত ডাটা বিশ্লেষণ করে নম্বর দেওয়া হয়েছে। এখানে কারও সুপারিশ বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। প্রাথমিক তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরবর্তীতে আরও যাচাই-বাছাই করা হতো।”
তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—যোগ্যতার চেয়ে আর্থিক লেনদেনই কি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তড়িঘড়ি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠিয়ে সম্মতি চাওয়ার বিষয়টিও রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা।
পড়ুন:রোমান্টিক কমেডি সিনেমায় ব্ল্যাকপিংকের লিসা
দেখুন:তুষারঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ জনের মৃ-ত্যু, ২৫ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা |
ইম/


