নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ভাবগাম্ভীর্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের ১৯১তম জন্মতিথি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুর্গাপুর পৌরসভার সীমান্তবর্তী কুল্লাগড়া গ্রামের রামকৃষ্ণ আশ্রমে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভক্ত ও অনুসারীরা এই পুণ্য তিথি উদযাপন করেন।
দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল ঊষালগ্নে মঙ্গলারতি, দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠ। দুপুরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণের পর এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। যা অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
রামকৃষ্ণ আশ্রমের অন্যতম সদস্য মিন্টু কুমার সাহার সাবলীল সঞ্চালনায় এবং আশ্রমের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানেশ চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন স্বামী কাশিকানন্দজী মহারাজ।
অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ফাদার পাওয়েল কচিওলেক।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের সাবেক বিদ্যালয় পরিদর্শক পরিমল চন্দ্র পণ্ডিত, ডন বসকো কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল রুমন রাংসা, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীরেশ্বর চক্রবর্ত্তী, স্বপন সান্যাল এবং সাবেক কাউন্সিলর দিলীপ সাহা প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের জীবন ও দর্শনের ওপর গভীর আলোকপাত করে বলেন, “ভোগের চেয়ে ত্যাগেই প্রকৃত শান্তি নিহিত।” তাঁরা বলেন, শ্রী রামকৃষ্ণ জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবধর্মের প্রচার করেছেন। তিনি সমাজে প্রচলিত জাতিভেদ ও ধর্মীয় কুসংস্কারের মূলে কুঠারাঘাত করেছেন।
পরিশেষে বক্তারা আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমরা রামকৃষ্ণ দেবের দেখানো পথ অনুসরণ করে মানবকল্যাণে ব্রতী হই এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসি।”


