মেহেরপুর জেলার গাংনী পৌরসভায় প্রায় এক কোটি টাকার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, কুষ্টিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস রুমানা এন্টারপ্রাইজ ৯৮ লাখ ২৯ হাজার ৪০২ টাকায় গাংনী পৌরসভায় ১৬৮৫ মিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ পায়। কাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।
সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে রাস্তা। ফলে কোটি কোটি টাকা সরকারের কোন কাজেই আসছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শামীম রেজা ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এম এস রুমানা এন্টারপ্রাইজের মধ্যে রয়েছে ‘অদৃশ্য যোগসাজশ’। ফলে কোনো প্রকার মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই আগের অনেক কাজে বিল উঠছে একের পর এক, অথচ রাস্তাগুলোর হাল দেখলে মনে হয় বছর নয়, যেন দশকের পুরোনো।এ সকল দুর্নীতিবাজদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, প্রতিটি বিল ছাড় করাতে হয় প্রকৌশলী শামীম রেজাকে খুশি করে। না হলে মাসের পর মাস পড়ে থাকে ফাইল। এই কারণে অনেকেই নিম্নমানের কাজ করেও সুবিধা আদায় করে বিল ছাড়িয়ে নেয়।
অন্য এক সূত্র জানায়, যারা সুবিধা দিতে চায় না, তারা মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হয়, এমনকি কাজের অগ্রগতি থমকে যায়, অথচ যারা রাখে খুশি, তাদের জন্য সব পথ খোলা। প্রকৌশলী শামীম রেজার জন্য এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। স্থানীয়দের ভাষ্যে, বিগত কয়েক বছর ধরেই গাংনী পৌরসভায় নানা উন্নয়ন প্রকল্পে রয়েছে একই রকম অভিযোগ। কিছুদিন যেতে না যেতেই সড়কে দেখা দেয় ভাঙাচোরা চেহারা, নর্দমা সংস্কারে থাকে ফাঁকি, আবার কোথাও কোথাও কাগজে কলমে কাজ সম্পন্ন হলেও বাস্তবে দেখা মেলে না কিছুই।
প্রকাশ করা যাবে না এমন শর্তে পৌরসভার কয়েকজন স্টপ জানান, শামীম রেজার বিরুদ্ধে অনেক অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ থাকলেও কখনো কোন মেয়রই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সুর তোলেননি। সবার মেয়র সহ প্রশাসককে ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তিনি মেহেরপুর শহরে বাড়ি ও ঢাকাতেও বাড়ি তৈরি করেছে এমন গুঞ্জন উঠেছে।
সড়ক নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শামীম রেজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজ নিয়ম মেনেই হচ্ছে। কোনো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। কেউ কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ও দপ্তরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর গাংনী পৌর প্রশাসক আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। নির্মাণ সামগ্রী ল্যাব টেস্টে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন: পটুয়াখালীতে পুলিশের তৎপরতায় হারানো ৭০টি মোবাইল ও অনলাইন প্রতারণার ৪৯ হাজার টাকা উদ্ধার
দেখুন: বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভিক্ষুক: চমকে উঠবেন সম্পত্তির পরিমাণ শুনে
ইম/


