নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে বিদ্যালয়ের সরকারি আবাসিক ভবনে কোনো ধরনের ভাড়া পরিশোধ ছাড়াই বসবাস করে আসছেন।
স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমান সরকারি বিধি ও প্রশাসনিক নিয়ম উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে ওই আবাসিক ভবনে অবস্থান করছেন। শিক্ষা প্রশাসনের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ভবনে বসবাসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন গ্রহণ, নির্ধারিত হারে মাসিক ভাড়া পরিশোধ এবং নিয়মিত হিসাব সমন্বয় বাধ্যতামূলক। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব শর্ত পূরণের কোনো লিখিত নথি বা ভাড়া পরিশোধের রেকর্ড বিদ্যালয় কিংবা উপজেলা পর্যায়ে সংরক্ষিত নেই বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলো দাবি করছে, প্রায় দুই দশক ধরে ওই শিক্ষক কোনো ধরনের ভাড়া পরিশোধ ছাড়াই সরকারি আবাসিক সুবিধা ভোগ করে আসছেন, যা সরকারি আর্থিক বিধি ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক মোঃ মশিউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিল্পী আক্তার জানান, তিনি সম্প্রতি বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর আগ থেকেই সেখানে কর্মরত। কী প্রক্রিয়ায় বা কার অনুমোদনে তিনি সরকারি আবাসিক ভবনে বসবাস করছেন সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো লিখিত নথি বা তথ্য নেই বলে জানান তিনি। বিষয়টি এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁর নজরে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
সৈয়দপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, সরকারি আবাসিক ভবনে বসবাস ও ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। তিনি জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিয়মের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন: ভৈরব নদে দ্বিতীয় সেতুসহ উন্নয়নের রূপরেখা ঘোষণা করলেন আজিজুল বারী হেলাল
দেখুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান শহীদ ও আহত পরিবারদের সাথে মতবিনিময় সভা |
ইম/


