প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলেছেন, যে কোন সাংবাদিকের উপর আঘাত কে আমরা নিন্দা জানাই। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এটা সবার দায়িত্ব। এটা সরকারের যেমন দ্বায়িত্ব তেমনি সাধারণ নাগরিক ও প্রতিটা রাজনৈতিক দলগুলোরও নৈতিক দায়িত্ব। সাংবাদিকরা যেন নির্বিঘ্নে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা আশা করি যে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা এবারের নির্বাচনটা খুবই সুন্দর ভাবে কাভারেজ করতে পারবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাটুলিয়া এলাকার বোচাই চাঁন পাগলার মাজার ও মেলার মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রেস সচিব আরও বলেন, দেশে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে স্বৈরাচার, অনাচার ও অত্যাচারের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, সারা দেশের মানুষ জানে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল দিলে আর কেউ দেশের ব্যাংকের টাকা লুট করে নিয়ে যেতে পারবে না, কাউকে গুম করা হবে না। এর মাধ্যমে এমন একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। সব প্রার্থী ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং ভোট চাইছেন। সারা দেশে একটি উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক।
বুচাই চাঁন পাগলার মাজার প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে জনপ্রিয় বাউলগানের মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের নামকরা বাউলশিল্পীরা অংশ নেন। এই মাজারসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এই মেলা বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
তিনি বলেন, এটা একটা নিন্দনীয় কাজ ছিলো, এই মাজারে আঘাত বা ভাঙচুর করাটা। বাংলাদেশ অলি-আউলিয়াদের দেশ, পীর-আউলিয়াদের দেশ। ইসলাম এই ভূখণ্ডে এসেছে তাদের হাত ধরেই। মাজারে আঘাত করা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। কারও পছন্দ না হলে তিনি সেখানে না আসতে পারেন, কিন্তু আঘাত বা ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বুচাই পাগলার মাজারে তৌহিদি জনতা নামধারী একদল জনতা ভাঙচুর চালায়। ওই ঘটনায় ঢাকা জেলা সিনিয়র সহকারী জজ মোহাম্মদ জুনায়েদ ধামরাই থানা পুলিশকে মামলা করার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মাজারটি সংস্কার করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিব, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিদোয়ান আহম্মেদ রাফিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
পড়ুন- শুভ্র বসনে বিদ্যাদেবী, ভক্তের হৃদয়ে ভক্তি: দুর্গাপুরে সরস্বতী পূজার মহোৎসব


