১১/০২/২০২৬, ২১:১০ অপরাহ্ণ
25 C
Dhaka
১১/০২/২০২৬, ২১:১০ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সাগর-রুনি হত্যার ১৪ বছর: ‘যতদিন নিঃশ্বাস আছে, ততদিন বিচার চাইতে থাকব’

চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতার পালাবদলের পর সাগর সরওয়রের মা সালেহা মনির আশায় বুক বেঁধেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হয়ত তার ছেলে আর বউমা মেহেরুন রুনির মৃত্যু রহস্য উদঘাটন হবে। কিন্তু দেড় বছরেও আলোচিত এ মামলার কোনো কূল কিনারা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১২ বছরে মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। এখন মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারও বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘ ১৪ বছরেও বিচার না পেয়ে দুই পরিবারই হতাশ।

সালেহা মনির হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমি তো মা, আমার তো হত্যাকারীদের বিচার চাইতেই হবে।যতদিন নিঃশ্বাস আছে ততদিন বিচার চাইতেই থাকব।”

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাই কোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দায়িত্ব পেয়ে ডিএনএসহ অন্যান্য বায়োমেট্রিক পরীক্ষার জন্য ঘটনাস্থল থেকে বটি, পরিধেয় কাপড়সহ বেশ কিছু বস্তু পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবেও পাঠায় র‌্যাব। কিন্তু এতদিনেও তার ফল প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্ত প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা নিহত সাংবাদিক দম্পতির পরিবার এবং পেশাজীবীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই মামলার দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তের দায়িত্ব থেকে র‌্যাবকে বাদ দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করে এ তদন্ত কাজ শেষ করতে ছয় মাস বেঁধে দেয় হাই কোর্ট।গত বছরের ১৭ অক্টোবর হাই কোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি কাজ করছে।

এরপর গত চার মাসে এ মামলার তেমন কোনো অগ্রগতির খবর আসেনি। সব মিলিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমার তারিখ পড়েছে ১২৪ বার। তদন্ত সংস্থা পিবিআই কোনো আশার বাণী শোনাতে পারেনি।

সর্বশেষ সোমবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি৷

সে কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১ এপ্রিল নতুন তারিখ ঠিক করে দেন। পাশাপাশি প্রতিবেদন না দেওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন।

তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন। বলার মত তেমন অগ্রগতি নেই। ভালো-মন্দ যাই হোক, যেটা সঠিক, সেটায় তদন্তে আসবে।”

তদন্ত কর্মকর্তার ওই কথায় ভরসা পাওয়ার মত কিছু দেখছেন না সাগরের মা সালেহা মনির।

তিনি বলেন, “এ সরকার আসার পর মামলাটা নিয়ে অনেক আশা করেছিলাম। কিন্তু সেই আশা তো শেষ, আশা নাই। কি চাইব, কিছু চাওয়ার নাই। এখন আবার কে সরকারে আসবে জানি না। কে বিচার করবে বা করবে না জানি না।

“বিচার তো আল্লাহর হাতে দিয়ে রেখেছি। কিন্তু বিচারের আশা তো ছাড়তে পারি না। খারাপ লাগে ডেটের পর ডেট পড়ছে, তদন্ত শেষ হচ্ছে না। যে সরকারই আসুক না কেন, এরকম ডেট দিতেই থাকবে। কেন তদন্ত শেষ হচ্ছে না, এটা আমার প্রশ্ন।”

তিনি বলেন, “পিবিআই যেভাবে বলছে তাতে মনে হচ্ছে না এর রহস্য উদঘাটন করতে পারবে। আমাকে এসে বলে, ‘যদি ধরেন খুনি মারা গিয়ে থাকে’। উনারা কি করে জানেন খুনি মারা গেছে না বেঁচে আছে? এটা তো আল্লাহ জানেন, খুনি বেঁচে আছে না মারা গেছে।

উনারা পারেন না এমন কিছু তো না। ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটন করতে পারছে। আর এটার রহস্য বের করতে পারছে না? বলছে, অনেক দিন হয়ে গেছে… নানান কথা। উনাদের কথায় বুঝেছি, নেগেটিভ। আই ওয়াশ করানোর জন্য মামলাটা নিয়েছে। আর কি বলব, বলার মত কিছু নাই। এখন দেখা যাক, সামনে কী হয়। কতদিন বেঁচে থাকি।”

ছেলের বিচার না পেয়ে হতাশ এই মা বলেন, “অনেক আশা করেছিলাম, ইউনূস সরকারের সময় একটা না একটা হেস্তনেস্ত হবেই। দেখলাম যে, না; যেই লাউ, সেই কদু। এটা আর সম্ভব হবে কি না আল্লাহ জানেন।”

মামলার বাদী নওশের আলম রোমান বলেন, “এই সরকারের কাছে আশা করেছিলাম বিচারটা না হোক, তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি রেখে যাবে। কিন্তু কিছুই হল না, যা খুবই হতাশাজনক। প্রথম পর্যায়ে বলতাম, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন এবং কোনো গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত। তাছাড়া তো কোন আগাগোঁড়া খুঁজে পেতাম না।

“আমরা তো আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। ৫ অগাস্টের পর (হাসিনা সরকারের পতনের পর) মনে করেছিলাম এত বছর যা হয়নি, এই সরকার অন্তত হত্যাকাণ্ডের কারণ খুঁজে বের করবে এবং কারা জড়িত সেটা তো জানাবে। এখন মনে হচ্ছে, সরকার শতভাগ জড়িত এবং কোনো গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশে কখনো এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কুলকিনারা হবে না।”

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ড নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তদন্তের বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি। প্রত্যাশা করছি, দ্রুত সময়ে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হবে।”

পড়ুন:মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার

দেখুন:মুখ ফিরিয়েছে বাংলাদেশ, অথৈ সাগরে ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসা | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন