গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কিছুদিন আগে দল থেকে বহিষ্কৃত নেতার মোটর সাইকেল শোডাউনে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীর মোঃ আল কামাহ্ তমাল স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ০৯ নভেম্বর ২০২৫ আজ রোববার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সাঘাটা উপজেলা ও আশপাশ এলাকায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একই দিনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা নাহিদুজ্জামান নিশাদ ও বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ফারুক আলম সরকারের মোটরসাইকেল শো-ডাউন কে কেন্দ্র করে দুইটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে স্থানীয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থায় জন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। এই সময়ে অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন, লাঠি বা দেশীয় অস্ত্র বহন, মাইকিং বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমবেত হওয়া, সভা-সমাবেশ ও মিছিল আয়োজন নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ দিকে উভয় পক্ষের নেতা কর্মীরা উপজেলা শহরে অবস্থান করছেন।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে দলের চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক আলমের নাম ঘোষনা করেন।
গত ২৪ অক্টোবর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদে স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলীয়
শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নাহিদুজ্জামান নিশাদকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন থেকে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে কোন প্রকার যোগাযোগ না রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু দলীয় নেতা কর্মী নির্দেশ অমান্য করে ভোটের মাঠে নিশাতের পক্ষে কাজ করেন এবং দলীয় গ্রুপিং সৃষ্টি করেন।
তবে, বিএনপির তৃনমূলের নেতা কর্মীরা বলছেন, নাহিদুজ্জামান নিশাদ কোন দিন বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। পতিত স্বৈরাচার হাসিনার সরকার ছাত্র- জনতারা রোষানলে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা দাবি করেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। নিশাদ বগুড়া জেলার প্রভাব খাটিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করছেন।
সাঘাটার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, দুই গ্রুপের মধ্য কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে পুলিশ শক্তভাবে মাঠে অবস্থান করছেন। ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে কাউকে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না।


