মিটফোর্ডে চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা, খুলনায় গুলি করে ও রগ কেটে যুবদলের সাবেক নেতা মোল্লা মাহবুবুর রহমানকে হত্যা এবং চাঁদপুরে মসজিদের ইমামের উপর প্রাণঘাতি হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের(জাবি) একদল শিক্ষার্থী৷
শনিবার(১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এই মশাল মিছিল বের করেন তারা৷ মিছিলটি নতুন প্রশাসনিক ভবন হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়৷
সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া মুনের সঞ্চালনায় বক্তারা অবিলম্বে মবোক্রেসি বন্ধ ও সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান৷
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট(মার্ক্সবাদী) জাবি শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, ৫ আগস্টের পরও বিচারবহির্ভূত হত্যার জন্য মিছিল করতে হচ্ছে৷ যা আমাদের অত্যন্ত দুঃখজনক৷ সোহাগকে হত্যার দায় যতটুকু বিএনপির, ততটুকু ইন্টেরিম সরকারের। কারণ যখন হত্যাকাণ্ডের ম্যান্ডেট তৈরি তখন সোহাগের মতো মানুষ হত্যার শিকার হয়৷ অনতিবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে৷ একই সঙ্গে ইন্টেরিমকে অবিলম্বে এসব হামলার জবাব দিতে হবে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আ র ক রাসেল বলেন, যেদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শামীম মোল্লাকে হত্যা করা হয়েছে তার পরেরদিনই আমরা মবোক্রেসির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি৷ অথচ বিচার না করে হত্যাকারীদের এখন ক্যাম্পাসে উন্মক্ত চলাফেরা সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের নামেমাত্র বহিষ্কারদেশ দেওয়া হয়েছিল। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি আজকের সোহাগ হত্যার জন্য দায়ী৷ ইন্টেরিমকে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, এই মবোক্রেসি থামান, সন্ত্রাসী হলেও তাদের বিচারের আওতায় আনেন৷
এর আগে একই ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৪টার দিকে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। শনিবার(১২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্ত্বর এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন তারা।
সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রুবেল বলেন, ঢাকার মিটফোর্ডে নৃশংস ও লোমহর্ষকভাবে ব্যবসায়ী সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি শুধু মিটফোর্ডের হত্যা নয় চাঁদপুরে একজন মসজিদের ইমাম ও খুলনায় একজন যুবদল নেতাকে যে বর্বরচিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে সে ঘটনায় জড়িতদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু আমরা একটা বিষয় লক্ষ্য করছি, পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায় কিছু রাজনৈতিক দল এটাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার পায়তারা করছে। এটি তাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ক্রোন্দলে হলেও তারা বিএনপিকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বক্তব্য দিচ্ছে। এধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিতে হবে। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও ছাত্রদল সবসময় বিচারবহির্ভূত হত্যার বিপক্ষে।
সমাপনী বক্তব্যে শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার আশা, আকাঙ্ক্ষা ছিলো যে একটি পরিবর্তনের রাজনীতি বাংলাদেশে শুরু হবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো হানাহানি, খুনোখুনি থাকবে না। আমরা চেয়েছিলাম একটি সাম্য এবং ন্যায়বিচারের রাষ্ট্র। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পরেও এসে দেখিছি বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনকে দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে৷ এই সরকার যদি প্রথম দিন থেকে এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার, মব কালচারের বিচার এবং গ্রেপ্তার করতো তাহলে সন্ত্রাসীরা এসব মব কালচারের মাধ্যমে বারবার হত্যাকাণ্ডের সাহস পেত না।
পড়ুন : যুবদল নেতা কর্তৃক ব্যবসায়ীকে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল


