আসন্ন নির্বাচনের আগে ঢাকা শহরের জন্য নতুন করে ভোটার তালিকা তৈরির দাবি জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম।
তিনি বলেছেন, যারা স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করেন, কেবল তারাই এই শহরের ভোটার হবেন; অন্য কোথাও থেকে এসে ঢাকায় ভোট দেওয়ার সুযোগ আর থাকতে পারবে না।
শনিবার (৪ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জিয়া শিশু কিশোর মেলার আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, “ঢাকা শহরের বাড়িগুলোতে যেখানে সাত-দশটি ভোট ছিল, সেখানে হঠাৎ করে ১৫০টি ভোট হয়ে গেছে। অনেক বাড়িতে খোদ বাড়িওয়ালাই জানেন না কীভাবে এই বিপুলসংখ্যক ভোটার তালিকায় যুক্ত হলেন। আমরা চাই, আপনি যেখানে থাকেন সেখানেই ভোটার হোন। ঢাকায় থাকবেন না, ট্যাক্স দেবেন না, শহরের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই– অথচ এখানে ভোটার তালিকায় নাম রাখবেন, এটা হতে পারে না।”
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, “আমরা ভোটের বাইরে কিছু চাই না। বাংলাদেশে যখনই নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে, তখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও জ্বালানি সাশ্রয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সারা বিশ্বে যখন তেল ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে অস্থিরতা চলছে, তখন আমাদের নেতা (তারেক রহমান) নিজে কৃচ্ছ্রসাধনের উদাহরণ তৈরি করেছেন। তিনি নিজের অফিসে এসি চালান না, অতিরিক্ত আলো জ্বালান না। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা কোথায়?”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন জনমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, নির্বাচনের সময় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করলেও এখন তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হচ্ছে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মউকুফ করা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই সংকটে গরিব মানুষ, কৃষক ও শ্রমিকদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন।
বিএনপিকে জনগণের ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। যোগ্য বাবা-মায়ের যোগ্য সন্তান হিসেবে তারেক রহমানও সব ষড়যন্ত্র ও অত্যাচার মোকাবিলা করে জনগণের ভোটে আজকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
সংগঠনের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদারের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ছড়াকার আবু সালেহ এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশারফ আহমেদ ঠাকুর প্রমুখ।
পড়ুন : নববর্ষে এবার হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ : সংস্কৃতিমন্ত্রী


