‘তাণ্ডব’ দেখাচ্ছে আয় কীভাবে করে? উৎসব প্রমাণ করছে, শো কম পেলেও ভালো গল্প জায়গা করে নেয়। আর বাকিরা? কেউ অপেক্ষা করছে দ্বিতীয় ইনিংসের, কেউ আবার পরের ঈদের! তবে হিসাবটা সহজ—সিনেমা ভালো হলে দর্শক আসে, ঈদে তো বটেই!

‘তাণ্ডব’ নামের মতোই তাণ্ডব চালাচ্ছে দেশের হলগুলোতে! মাল্টিপ্লেক্সে ২৮টি শো দিয়ে শুরু, এখন তা দাঁড়িয়েছে ৪৫-এ! শতাধিক সিঙ্গেল স্ক্রিনেও চলছে বীরদর্পে। প্রথম পাঁচ দিনেই আয় ৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে! পরবর্তী পাঁচ দিনে আরও ৪ কোটির বেশি! ১০ দিনে মোট আয় ৯ কোটি টাকা! প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিলের ভাষায়—”এখনও পুরোদমে চলছে, আয় বাড়ছেই!”

‘উৎসব’ নামটা যেমন, আয়ও তাই। শুরুতে মাত্র ৯টি শো পেয়েছিল, এখন ১৫! ৯ দিনেই আয় ১ কোটি, আর পরের দুই দিনে যোগ হয়েছে আরও ২০ লাখ। পরিচালক তানিম নূরের মতে, “দর্শক আমাদের সিনেমা গ্রহণ করেছেন।”

‘ইনসাফ’ ঈদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হল পেয়েও কিছুটা ছিটকে গেছে তাণ্ডবের ছায়ায়। আয় ১ কোটির কাছাকাছি—তবে প্রযোজকের আশা, “তাণ্ডব নামলেই ইনসাফ উঠবে!” মানে, একটা সিনেমার ইনসাফ হয় অন্য সিনেমা সরে গেলে!
‘নীলচক্র’ আশা জাগালেও মাঝপথে থেমে যায়। মাল্টিপ্লেক্সে আয় মাত্র ২৩ লাখের মতো। পরিচালকের দাবি—“ঢাকার বাইরে ও বিদেশে মুক্তির পর ঘুরে দাঁড়াবে।”যদিও এখনই শো সংখ্যা কমে গেছে বেশ খানিকটা।
কম শো, কিন্তু হাউসফুল! ‘এশা মার্ডার: কর্মফল’ হলেই প্রশংসা। মিডিয়াম বাজেটের এই ছবিটি মাল্টিপ্লেক্সে আয় করেছে প্রায় ১৬ লাখ টাকা। স্বত্বও বিক্রি হয়েছে ভালো দামে। এটা শুধু সিনেমা নয়, নিম্নবিত্ত মানুষের গল্পও—যা ছুঁয়ে গেছে দর্শকের মন।
‘টগর’ প্রচারণায় চটকদার হলেও আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪ লাখ টাকায়। পরিবেশকের কথায়—“আয় নিয়ে অনেক ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। সবাই ভাবছে প্রযোজকই সব টাকা নিচ্ছে। আসলে গ্রস সেল থেকে খরচ বাদে হাতে পড়ে কমই।”
রোজার ঈদেও বাজিমাত করেছিল ‘সুরঙ্গা’ আফরান নিশোকে নিয়ে আলোচনায় ছিলো সিনেমা। ‘পাঠান’ ছিল বড় বাজেট, ভালো রিভিউ। আর ‘কয়লা’র মতো কিছু সিনেমা দর্শক খুঁজেই পায়নি—হলেই ছিল না! একটা বিষয় স্পষ্ট—প্রচারণা না, আয় নির্ভর করে গল্প আর হল অ্যাভেইলেবিলিটির উপর।


