সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা ও নগর পরিচ্ছন্নতায় ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসজুড়ে সিরাজগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পৌর কবরস্থান মালশাপাড়ায় ৪০০টি সুপারি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়নের কার্যক্রম শুরু হয়। একই দিনে অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে একটি ভ্যান উপহার দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলখানা ঘাট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। অসহায় মানুষের মাঝে নিয়মিত ইফতার বিতরণ, খাদ্যসামগ্রী প্রদান এবং গণভোজের আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় দুই হাজার মানুষ একসঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ, নগদ অর্থ সহায়তা এবং শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল বিতরণ করা হয়।
শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তুলতেও নেওয়া হয়েছে কার্যকর উদ্যোগ। অসহায় দোকানদারদের ফ্রিজ প্রদান, রিকশা বিতরণ, প্রবীণ ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার প্রদান এবং নারীদের জন্য সেলাই মেশিন ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করছে।
শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নেও অবদান রেখেছে ফাউন্ডেশন। বিভিন্ন মাদ্রাসায় বিশুদ্ধ পানির মেশিন, লুঙ্গি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে কবরস্থানের খাদেম ও মসজিদের ইমামদের মাঝে উপহার প্রদান করা হয়।
নগর উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন সড়ক, বাজার, ঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। “ময়লা জমা দিলেই অর্থ প্রদান” কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাঙা সড়ক সংস্কারের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে, যা স্থানীয় জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করেছে।
হাজী মোঃ আব্দুস সাত্তার বলেন, “মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় ইবাদত। যতদিন সামর্থ্য আছে, ততদিন সমাজের অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।”
স্থানীয়রা তাঁর এসব উদ্যোগকে মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ধারাবাহিক এই কার্যক্রম সিরাজগঞ্জকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও মানবিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
পড়ুন- ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১২ কি.মি. জুড়ে যানজট, ধীরগতিতে চলছে গাড়ী


