ইয়াবা কারবার ও কিশোর গ্যাং দিয়ে কয়লা চুরির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কয়লা ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সীমান্ত এলাকার কথিত গ্যাং প্রধান ও ইয়াবা ডিলার রুহুল আমিনসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২ মার্চ) দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম চারাগাঁওয়ে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সিরাজুল ইসলামকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত সিরাজুল ইসলাম চারাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও আব্দুস শহীদের ছেলে। তিনি চারাগাঁও স্থল শুল্ক স্টেশনের একজন কয়লা ব্যবসায়ী।মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রুহুল আমিন ও তার সহযোগীরা সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা কারবার, ইয়াবা সেবন এবং কিশোর গ্যাং ব্যবহার করে বিভিন্ন কয়লার ডিপো থেকে চুরি করে আসছিল। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।
এরই জেরে রবিবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে চারাগাঁও স্থল শুল্ক স্টেশনে যাওয়ার পথে সমিতির সামনের সড়কে রুহুল আমিন ও তার সহযোগীরা সিরাজুলের পথরোধ করে। এ সময় রুহুল ধারালো চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে সিরাজুল গুরুতর আহত হন। পরে রুবেল, রাজু ও আরও কয়েকজন সহযোগী লোহার রড ও কাঠের রোল দিয়ে বেধড়ক মারধর করে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।মামলায় প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে রুহুল আমিনকে। তিনি চারাগাঁও গ্রামের মুত আরজু মিয়ার ছেলে। এছাড়া একই গ্রামের রুবেল, রাজু ও অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কয়লা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, রুহুল আমিন অতীতেও কয়লা চুরির ঘটনায় জড়িত ছিল। একাধিকবার হাতেনাতে ধরা পড়ার পর কয়েক বছর আগে পরিবারসহ গাজীপুরে চলে যান তিনি। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে আবারও ইয়াবা কারবার ও কয়লা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েন।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল আমিন দাবি করেন, পূর্ববিরোধের জের ধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা ইয়াবা কারবার ও কয়লা চুরির অভিযোগ মিথ্যা।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, কয়লা ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন- ৪ আসনের ব্যালট পেপার ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
দেখুন- ইরানের ক্ষে/প/ণা/স্ত্র হা/ম/লা/য় ইসরাইলে ৯ জন নি/হ/ত


