উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চলের তুররাহ মার্কেটে গত সোমবার সেনাবাহিনীর হামলা চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সুদানের যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা দ্য ইমারজেন্সি লইয়ার্স জানায়, হামলায় শত শত লোক হতাহত হয়েছেন এবং বহু মানুষের মরদেহ বিকৃত হয়ে গেছে। এই হামলা চলমান গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি জানায়, এই হামলা ছিল “ভয়াবহ গণহত্যা” এবং তুররাহ মার্কেটের অধিকাংশ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, মার্কেটের ধ্বংসাবশেষ থেকে কালো ধোঁয়া উড়ছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী এবং শিশু। এদিকে, সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে, তারা শুধুমাত্র শত্রুপক্ষের অবস্থান লক্ষ্য করে বৈধ হামলা চালিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলি এ দাবি খারিজ করেছে এবং এটিকে বেসামরিক নাগরিকদের উপর হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এছাড়া, সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে এই সংঘাত চলমান রয়েছে এবং গত কয়েক মাসে যুদ্ধবিরতি একাধিকবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে দেশের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, এবং ৫০,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধ বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
গত জানুয়ারিতেও একটি সবজির বাজারে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় ৫৬ জন নিহত এবং ১৫৮ জন গুরুতর আহত হন। সে হামলার জন্য র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে দায়ী করা হয়েছে। এসব হামলার ফলে দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। চলমান যুদ্ধের প্রভাব শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলিতেও এর প্রভাব পড়ছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠী এখন সুদানে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে,
তবে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তির জন্য কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো দৃশ্যমান হয়নি। বিশেষ করে, দারফুর অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে যুদ্ধের শিকার হয়ে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
পড়ুন: সুদানে হাসপাতালে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিহত ৬৭
দেখুন: কেন হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠলো সুদান? |
ইম/


