সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাহিরপুর-বিশম্ভরপুর সীমান্তে বহমান যাদুকাটা নদীর তীরে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন মিয়ারচরসহ আশপাশ গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ।শনিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মিয়ারচর এলাকায় যাদুকাটা নদীর তীরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, যাদুকাটা নদীর ইজারাদার অবৈধভাবে নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলন করে আসছে। স্থানীয়রা এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ইজারাদারদের পক্ষ থেকে জাকির হোসেন ডালিম, মনোয়ার হোসেন অলিমসহ কয়েকজন নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে কেউ নদীর তীর কেটে বালু তুলতে পারবে না। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে প্রায়ই দিনে-রাতে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে গ্রামবাসী বাধা দিলে ইজারাদাররা ক্ষুব্ধ হয়ে গণহারে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি চালাচ্ছে।
গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, ইজারাদাররা একের পর এক মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষদের ভয় দেখিয়ে নদী লুটের পথ প্রশস্ত করছে। এসব মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতেই তারা একত্রিত হয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন, হাসান আলী, আক্তার মিয়াসহ অনেকে। তারা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নদীপাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা মামলাটি তদন্ত করছি। তদন্তে যারা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন, তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “যাদুকাটা নদীর তীর কেটে বালু লুটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে একাধিকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসন নদী রক্ষায় সর্বদা তৎপর।”
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে প্রায় ১০৭ কোটি টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে যাদুকাটা-১ ও ২ বালুমহাল। শুরুতে বেলা’র মামলার কারণে ইজারাদাররা বালু আহরণ করতে না পারলেও মামলাটি উচ্চ আদালতে সরকারের পক্ষে যাওয়ায় তারা পুনরায় আহরণ শুরু করেছে। তবে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা এবং স্থানীয় জনগণ নদী ইজারার বিপক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে।
পড়ুন : সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিশাল জনসভা উপলক্ষে লিফলেট বিতরণে বিএনপি কর্মীরা


