সুনামগঞ্জে ভুয়া ব্যবসায়ী সেজে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণার উদ্দেশ্যে স্বপরিবারে সুনামগঞ্জ শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে তারা ‘মেসার্স আব্দুল্লাহ বানিজ্যালয়’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পেয়াজ, রসুন ও আলুর পাইকারি ব্যবসা শুরু করে।
প্রতারক চক্রটি বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করে প্রথমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আস্থা অর্জন করে। এরপর বড় চালান আনার কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকারও বেশি নগদ টাকা সংগ্রহ করে। টাকা সংগ্রহের কয়েক ঘণ্টা পরেই তারা দোকান তালাবদ্ধ করে এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়।
পরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা প্রতারণার শিকার হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং—১৭/২৭০, তারিখ—১৭/০৯/২০২৫ খ্রি., ধারা—৪০৬/৪২০ পেনাল কোড ১৮৬০।
ঘটনার তদন্তে নেমে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি দল গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা এর সহযোগিতায় সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার শ্রীবর্দীপুর ঘোষপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়।
অভিযানে প্রতারণা মামলার এজাহারভুক্ত ও তদন্তে চিহ্নিত ৬ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ রফিকুল ইসলাম সোহেল (৩৯), পিতা-মোঃ আবুল হাসেম, বাসুরদিয়ার (বড়বাড়ী), কিশোরগঞ্জ সদর। মোছাঃ শাহানা পারভীন (৪৩), পিতা-আব্বাস উদ্দিন, ছিহাটি, নিকলি, কিশোরগঞ্জ।মোঃ মশিউর রহমান ওরফে মাসুক (৩০), পিতা-মোঃ হেকিম মিয়া, বৌলাই, কিশোরগঞ্জ সদর। মোঃ শফিউর রহমান (২৬), পিতা-মোঃ আঃ হেকিম, রঘুনন্দনপুর (বটতলা), কিশোরগঞ্জ সদর।রিনা আক্তার (২০), স্বামী-মোঃ শফিউর রহমান, রঘুনন্দনপুর (বটতলা), কিশোরগঞ্জ সদর। নারগিস আক্তার (৩৪), স্বামী-মোঃ রফিকুল ইসলাম সোহেল, বাসুরদিয়ার (বড়বাড়ী), কিশোরগঞ্জ সদর।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা পূর্বেও দেশের বিভিন্ন জেলায় একই ধরনের প্রতারণা করেছে। সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলাকে টার্গেট করে নতুনভাবে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করছিল।গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে সুনামগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।র্যাব-৯ জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র্যাবের অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন: মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল করার অভিযোগ
দেখুন: গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেলে তীব্র জনবল সংকট |
ইম/


