সুনামগঞ্জে সীমান্ত এলাকায় যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।আজ ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ভোর আনুমানিক চারটার দিকে, সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ২৮ বিজিবি-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।বিজিবি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ও বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ঘাগটিয়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ঘরকে ঘিরে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে ওই ঘর থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে— ২৫০০ কেজি ভারতীয় জিরা এবং ৯৫০০ কেজি ভারতীয় ফুসকা।বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা এসব পণ্যের সর্বমোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০ লাখ টাকা।যৌথ এই অভিযানে সেনাবাহিনীর একজন অফিসারসহ মোট ১৫ জন সেনাসদস্য অংশগ্রহণ করেন।
অন্যদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে জেসিও নম্বর ১০০১২, নায়েব সুবেদার কাজী মোহাম্মদ কামাল-এর নেতৃত্বে ১৪ জন বিজিবি সদস্য অভিযানে অংশ নেন।সব মিলিয়ে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সদস্যের সংখ্যা ছিল ৩০ জন।বিজিবি জানায়, চোরাকারবারিরা সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিত্যক্ত ঘর ও নির্জন স্থানকে নিরাপদ ভেবে অবৈধ ভারতীয় পণ্য মজুদ করে রাখে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করার চেষ্টা করা হয়। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন প্রচেষ্টা আগেই নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ২৮ বিজিবি-এর অধিনায়ক একে এম জাকারিয়া কাদির জানান,উর্ধ্বতন সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাই পথে ভারতীয় অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য দেশে প্রবেশের ফলে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হয়। তাই এই ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি আরও জানায়, জব্দ করা ভারতীয় জিরা ও ফুসকা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুনামগঞ্জ শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা না গেলেও চোরাচালান চক্র শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের যৌথ অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝেও স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নিয়মিত এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে চোরাচালান কার্যক্রম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
পড়ুন- তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে মেহেরপুরের গাংনীতে আনন্দ র্যালি


