আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পাওয়ায় সুনামগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জেলা থেকে তৃণমূল—সব স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা।
দলীয় প্যাডে চূড়ান্ত ঘোষণা
ঘোষণাপত্র অনুযায়ী— সুনামগঞ্জ–১ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন আনিসুল হক, সুনামগঞ্জ–২ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ–৪ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামকে, এবং সুনামগঞ্জ–৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন।
মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের হাতে পৌঁছানো মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত চিঠিগুলো পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও দলীয় নেতাদের কাছে পাঠানো হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।দলীয় সূত্র জানায়, চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও গতি পেয়েছে। প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ শুরু করেছেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক বৈঠক, মতবিনিময় এবং ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
একাধিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী জানিয়েছেন, দলের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা শান্তিপূর্ণ ও সাংগঠনিক প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হলে দ্রুত মাঠে নামার পরিকল্পনাও রয়েছে।মনোনয়ন ঘোষণার পর সুনামগঞ্জ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর দলীয়ভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যম ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।তৃণমূলের একাধিক নেতা জানান, প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ায় এখন বিভ্রান্তি দূর হয়েছে। সবাই একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। দলীয় ঐক্য বজায় রেখে মাঠে নামতে পারলে নির্বাচনে ভালো ফলাফল পাওয়া সম্ভব বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুনামগঞ্জ জেলার চারটি আসনই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি আসনেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। প্রার্থীদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় ঐক্য—এই বিষয়গুলোই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিএনপি যদি সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় থাকে, তাহলে সুনামগঞ্জের আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বেশ শক্তিশালী।
মনোনয়ন ঘোষণার পর দলের সিনিয়র নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হলে সুনামগঞ্জে বিএনপি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবে। ভোটারদের আস্থা অর্জনই এখন মূল লক্ষ্য বলে জানান তারা। সব মিলিয়ে, চারটি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে বিএনপির নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি, কৌশল ও প্রত্যাশার সূচনা হয়েছে—যা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পড়ুন: মেহেরপুরের গাংনী হাইস্কুলে গ্রিল কেটে চুরি
দেখুন: মেহেরপুরের গাংনী হাইস্কুলে গ্রিল কেটে চুরি
ইম/


