ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই শেষে বিভিন্ন অনিয়ম ও আইনগত ত্রুটির কারণে ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একই সময়ে ২৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফল ঘোষণা করেন।রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় আয়কর সংক্রান্ত জটিলতা, তথ্যের অসামঞ্জস্য, প্রস্তাবকারী ও সমর্থকের স্বাক্ষরে ত্রুটি এবং নির্বাচন বিধিমালার বিভিন্ন শর্ত পূরণ না হওয়ায় ১৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
সুনামগঞ্জ–১ সংসদীয় আসন
এই আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির মুজাম্মিল হক তালুকদার এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হাজী মুখলেছুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির আনিসুল হক ও কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াতে ইসলামীর তোফায়েল আহমদ খান এবং ইসলামী আন্দোলনের রফিকুল ইসলাম চৌধুরী।
সুনামগঞ্জ–২ সংসদীয় আসন
প্রস্তাবকারী ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেবের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও তাহির রায়হান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ শিশির মনির, খেলাফত মজলিসের মো. সাখাওয়াত হোসেন, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মোহাম্মদ সোয়াইব আহমদ এবং সিপিবির নিরঞ্জন দাস।
সুনামগঞ্জ–৩ সংসদীয় আসন
আয়কর বকেয়া ও স্বাক্ষর সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলমেত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী, মাহফুজুর রহমান খান ও হুসাইন আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর ইয়াসিন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহিনুর পাশা বাসা চৌধুরী এবং শেখ মুশতাক আহমদ।
সুনামগঞ্জ–৪ সংসদীয় আসন
এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আবিদুল হক, খেলাফত মজলিসের মো. আমিরুল ইসলাম এবং এলডিপির মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট শামস উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, খেলাফত মজলিসের মো. আজিজুল হক, জাতীয় পার্টির নাজমুল হুদা এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. শহিদুল ইসলাম।
সুনামগঞ্জ–৫ সংসদীয় আসন
জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির মো. মোশাহীদ আলী তালুকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এই আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির কলিম উদ্দিন মিলন, জামায়াতে ইসলামীর আবু তাহির মো. আব্দুস সালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের মো. আব্দুল কাদির এবং ন্যাশনাল ত্রিপলস পার্টির মো. আজিজুল হক।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যেসব মনোনয়নপত্রে আইনগত ত্রুটি বা বিধিমালার ব্যত্যয় পাওয়া গেছে, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
পড়ুন- জিয়া উদ্যানে ধামরাইয়ের মাটিতে চিরনিদ্রায় আপসহীন নেত্রী, ইতিহাসে গর্বের অধ্যায় ধামরাইবাসীর


